সব ভেসে গেছে
যে পৃথিবীর ছবি দেখানো হয়েছিল আমাকে
ইস্কুলে, কলেজে
যে আগামীর কথা বারবার শুনেছি আমি
শিক্ষকের দৃপ্ত কণ্ঠে,
যে সব ইতিহাস জেনে গায়ে কাঁটা দিত আনন্দে
আর মা-কে জিজ্ঞেস করতাম
"এমন সত্যিই হয়?"
আর মা খুব আশ্বাসের সঙ্গে বলত, "আলবাত হয়, হয়েছে তো!";
যে ভবিষ্যতের স্বপ্নে প্রায়ই দেখতাম
বন্ধুরা আছি কাছাকাছি,
সারাদিনের মাথা-খাটানো শেষে দেখা হচ্ছে আমাদের
মাঝেমাঝেই,
আমরা পুরনো দিনের কথা বলব,
নতুন গ্রামে যাব, শহরে যাব
কথা বলব নতুন সব ছেলেমেয়েদের সঙ্গে
আরও স্বপ্ন, আরও স্বপ্ন --
সবই কেড়ে নেওয়া হল আমার থেকে।
মাস গেলে কিছুটা টাকার বিনিময়ে
আমি একটু একটু করে বেচে দিই নিজেকে।
চুপ থাকি।
না, আমার এই মৃতাবস্থার বিরুদ্ধে কথা বলা যাবে না।
টাকা চাই। মৃতেরা আবার কথা বলে নাকি?
আমার বাড়ি আছে, পৈতৃক বাড়ি।
বাড়ির একটা ইঁটও আজ অবধি আমায় নিজের পয়সায় বসাতে হয়নি।
আমি কী বুঝব বাড়ির দাম!
আমার গাড়ি আছে, সেটিও পৈতৃক।
আমি বাবু সেজে সেই গাড়ি চড়ে
বেড়াতে বেরোই।
ঠাণ্ডা ঘর থেকে ঠাণ্ডা গাড়ি
ঠাণ্ডা গাড়ি থেকে ঠাণ্ডা ঘর
সুখের খোঁজে
আসক্তির খোঁজে
বাঁচার খোঁজে
আমি যাই, খুঁজি, আর ফিরে আসি
আমার সেই ছোটবেলার পৃথিবী,
আগামীর স্বপ্ন
সব কোথায়, কোন জলে ভেসে গেছে
খেয়ালই করিনি।

Comments
Post a Comment