পাঠশালা
লাল চালের বাড়িটা দার্জিলিংয়ের এসেম্বলি অফ গড চার্চ স্কুল। সকাল না হতে বাচ্চাদের হইচই।
ইচ্ছেগাঁও থেকে দার্জিলিংয়ে এসে আমরা আছি খুব অদ্ভুত একটা জায়গায়। ম্যালের থেকে দু মিনিটের হাঁটা পথ, অথচ সম্পূর্ণ নির্জন। দুপুর বারোটা নাগাদও ঝিঁঝির ডাক শোনা যায়। এক ধাপ উপরে ম্যালের হট্টগোল; এক ধাপ নিচে ইস্কুলের কিচিমিচি। বাতাসে ভেসে আসছে ছেলেমেয়েদের কণ্ঠস্বর।
সেইসব শুনতে শুনতে মনে পড়ে, আমাদের দক্ষিণবঙ্গের নিভে-আসা, কঙ্কালসার, ভগ্নদশাপ্রাপ্ত ইস্কুলগুলোর কথা। ছেলেমেয়ে আসে না। দরজায় ঝুলে-থাকা তালা না খোলা হতে হতে জং ধরে যায়। ভেঙে যায়। ঘর থেকে উধাও হয়ে যায় বেঞ্চ। জানলার পাল্লা বৃষ্টিতে ফুলে ফেঁপে পচে একদিন খসে পড়ে যায়। ভূতবাড়ির মতো দাঁড়িয়ে থাকে ইস্কুলবাড়ি। উদয়ন পণ্ডিতের মতো কেউ সেখানে বলেন না, "পাঠশালা আবার খুলবে।"
Comments
Post a Comment