Followers

আবার ইচ্ছেগাঁও

২০/০৫/২০২৬

কিষাণগঞ্জের দিকে এগিয়ে চলেছি। ভোরের কুয়াশা। ভুট্টা ক্ষেত পেরিয়ে। বিরাট বড় বড় পদ্মপাতায় ঢাকা পুকুর পেরিয়ে। মুকুরিয়া বলে সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ একটি স্টেশন পেরোলাম। 

ঝলসে যাওয়া ভুট্টাক্ষেত। থেকে থেকে গ্রামের তেমাথা, চৌমাথা। বুড়ো অশ্বত্থ বা বট গাছ মোড়ে দাঁড়িয়ে। তার নিচে বসার বেঞ্চি। বা বেঞ্চিও বলা যায় না, বাঁশ দিয়ে বাঁধা বসার মতো একটা কাঠামো। সকাল ছটা বাজতে যায়। গ্রাম অনেক ভোরে জাগে বলে শুনি। তারা কি তবে রেললাইনের দিকে আসে না? নাকি রেললাইনের পাশের গ্রামগুলো অনেক বেলা অবধি ঘরে শুয়ে শুয়ে ট্রেনের ছুটে যাওয়ার শব্দ শোনে?

সুধানী বলে একটি স্টেশনে থামল ট্রেন। জায়গাটা হয়তো বিহারের মধ্যে, স্টেশনের নামফলকে বাংলার দেখা নেই। কলোনিয়াল ছোঁয়া স্টেশনের চালে, রেলিংয়ে, বাগানে। সাকুল্যে তিনটি কুকুর ও দুটি মানুষ সেই নিথর শোভায় চলমান।

বিড়বিড়ে আগাছাফুল হয়ে আছে লাইনের ধারে ধারে। কিষাণগঞ্জের মুখে ট্রেন দাঁড়িয়ে। পাশে বাচাল পার্টির একজন আরেকজনকে বলছেন, "তুই কাল রাতে শুয়েই নাক ডাকতে শুরু করলি। এই হল সুখী মানুষের লক্ষণ! নাহলে শুয়ে কেউ এত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়তে পারে?" আমি ভাবি, সুখী না দুঃখী? ক্লান্ত হলে তবেই মানুষ শুয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়তে চায়, এই জগতকে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে থাকতে চায়। তার কোনও সুখস্মৃতি চারণ করার থাকে না।

ট্রেনে যেতে যেতে পথপাশের যা কিছু জনপদ দেখি, মনে হয় বিভূতিভূষণের জমিদারি।

Comments