বর্ষপূর্তির উপহার
আমার আর শ্রীময়ীর আলাপ শুরু যেমন একে অন্যের লেখা ও আঁকার সূত্র ধরে, তেমনই হ্যারি পটারকে কেন্দ্র করেও। হ্যারি পটার হল আমার 'লাভ ইন দ্য টাইম অফ কোভিড' -- পড়া শেষ করে আমি তখন আচ্ছন্ন; হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল। শ্রীময়ীর সঙ্গে দীর্ঘ রাতের পর রাত পটারভার্স নিয়ে কত আলোচনা, প্রশ্ন-উত্তর। কোভিড-পরবর্তী পৃথিবীর বেঁচে ওঠার সময়ে আমরা দুজনেও আস্তে আস্তে এইসব নিয়ে বেঁচে উঠলাম।
পটারভার্স নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলাপের প্রথম দিনটি বছর বছর ঘুরে আসে। আগস্ট মাসের পাঁচ তারিখ। আমরা দুজনেই গরমকাল যেহেতু খুব ভালোবাসি, তাই ওই সময়ে আমাদের মুখে বিচিত্র সব আবেগ-অনুভূতি ফুটে উঠতে থাকে এমনিতে। সে-সব চেপেচুপে আমরা দেখা করি, বেরোই, কিছুটা সময় কাটাই একসঙ্গে। বাড়ি ফিরি অর্ধমৃত, ডিহাইড্রেটেড জোম্বির মতো। প্রতিবারই ভাবি, সামনের বছর ডিলিমিটেশন করে আমাদের পটারাড্ডার 'বর্ষপূর্তি' আগস্টে লিমিটেড না রেখে, শীতে ট্রান্সফার করিয়ে নেব। কারণ আগস্টে বর্ষপূর্তি হলে না ভরসা জাগে, না ফুর্তি।
মনে আছে, এক বছরের মাথায় এই দিনটা কাটিয়েছিলাম আমরা নরেন্দ্রপুর ব্লাইন্ড বয়েজ একাডেমির স্টুডিয়োতে; ছেলেদের জন্য কিছু অডিও স্টাডি মেটিরিয়াল রেকর্ড করেছিলাম। অটো করে নরেন্দ্রপুর যাওয়ার পথে শ্রীময়ী এই বইটা উপহার দিয়েছিল। আমার খুব প্রিয় এক উপহার। আজ বইটা হঠাৎ চোখে পড়ায় এত কথা মনে এল।
Comments
Post a Comment