Followers

জার্নাল ১৫/১০/২৫

 তখন কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ছে ভারতে। মৃত্যুর পর মৃত্যুর পর মৃত্যু। নতুন উদ্যমে সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আশেপাশে, অথচ ভোটের রঙ্গ রমরমিয়ে চলছে। যাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন কথা হয় না, এইই ছিল যোগাযোগ ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ। অথচ, যোগাযোগ করতে পারতাম না। বলার কিছু নেই। ফোন করব? মেসেজ করব? কেন? বেঁচে আছে কিনা দেখার জন্য। সেটুকু জেনেই বা কী করব?

সেই আস্তে আস্তে সব কিছু ভুলে যেতে শুরু করলাম, কারণ কিছুই আর মনে রাখার মতো, ফিরে যাওয়ার মতো দরকারি মনে হল না। যা কিছু ভালোবাসতাম – কবিতা, নাটক, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প – সবকিছুকেই বাহুল্য মনে হল। নিয়মিত লেখালেখি বন্ধ হয়ে গেল। এর কোনও কিছুকেই আমার বেঁচে থাকার, ভাল থাকার pre-requisite বলে মনে হল না আর। কেন মনে হল না, কে জানে। আমি তো বরাবর লিখতেই চেয়েছিলাম। অথচ সেই সময় থেকে আর মনে হল না, আমার লেখা এই সময়ে আমার প্রকাশ হয়ে উঠতে পারে।
আমার ভিতরে তখন থেকেই সেই ডিমেন্টরদের আনাগোনা অনুভব করতে শুরু করলাম। রাত তিনটে, সাড়ে তিনটে, চারটে অবধি জাগা। গ্রীষ্মের মেঘহীন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি। দূরে, জীবনানন্দ সেতু ধরে বাইপাসের দিকে চলে যাচ্ছে এম্বুলেন্সের ঝাঁক, মাঝেমাঝেই। তার শব্দ আসছে। ঝাঁ ঝাঁ করছে স্ট্রিটলাইট।
একদিন পাশের বাড়ির কার্নিশে এসে বসলো এক লক্ষ্মীপেঁচা। বেশ বড়সড়। তখন রাত দুটো পেরিয়ে গেছে মনে হয়। অনলাইন খবরের কাগজে দিল্লীর অস্থায়ী চিতাকুণ্ডের একটা ছবি খুলে বসে আছি। ভিতরটা বরফ। কষ্টে নয়, ভয়ে নয়। কিছু অনুভব করার ক্ষমতাই নেই আর। ডিমেন্টর'স কিস।
পেঁচাটা একভাবে বসে থাকে। আমি তাকিয়ে থাকতে থাকতে, শেষে বলি, "হেডউইগ?" একটু জোরে বলে ফেলেছি, এই ভেবে পাশের ঘরের দিকে তাকাই। বাবা-মায়ের ঘুম না ভেঙে যায়। জানলায় নাক ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলি, "নিয়ে যাবি, হেডউইগ?"
একটু পর সে বিরাট বড় ডানা মেলে উড়ে যায়। সে চলে গেছে, কত বছর কেটে গেল। অথচ কিছুই ঠিক হল না।

No comments yet

Be the first to comment.

Comments