প্রথম, সেদিন
১৮ই জুলাই, ২০২৩
ঠিক এগারো বছর আগে, ২০১২ সালে আজকের তারিখে নরেন্দ্রপুর কলেজে প্রথম ক্লাস নিয়েছিলাম। থার্ড পিরিয়ড – দুপুর বারোটা থেকে বারোটা পঁয়তাল্লিশের ক্লাস, ফার্স্ট সেমেস্টারের সঙ্গে। বিষয়, ফ্রান্সিস বেকনের দুটি রচনা।
ডিপার্টমেন্টে শ্রদ্ধেয় সতীপ্রসাদ দা-র মুখোমুখি চেয়ারটিতে বসতাম। যত ক্লাসের সময় এগিয়ে আসতো, তত আমার পড়া এবং পেন্ডুলাম-সুলভ দুলুনি বাড়তো, হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যেত। ক্লাসে যদি সাদা, সুবোধ ভাইয়েরা কঠিন প্রশ্ন করে? যদি তার উত্তর আমি না জানি? যদি ফ্রান্সিস বেকন বলতে গিয়েও আমি জিভ জড়িয়ে বান্সিস ফ্রেকন বলে ফেলি? সফোক্লিস গ্যালারি যাওয়ার পথে দেওয়াল-ছবি থেকে লোকেশ্বরানন্দ মহারাজ হাসছেন। আমার একটুও হাসি পাচ্ছে না।
তবে কঠিন প্রশ্ন আমাকেও সামলাতে হয়নি তেমন একটা, আর আমিও বান্সিস ফ্রেকন জাতীয় কিছু বলে ঠাকুর, মা বা স্বামীজী – কাউকেই তেমন বিড়ম্বনায় ফেলি নি।
সেই প্রথম টেবিলের এপারে দাঁড়ানো। তখন আমার সপ্তাহে এই একটিই ক্লাস থাকতো – প্রতি বুধবার। সেই সময়কার বিদায়ী ব্যাচের সঙ্গেও দুয়েকটি ক্লাস পেয়েছিলাম, বিংশ শতাব্দীর ইংরাজি সাহিত্য বিষয়ে। মাসকয়েক এভাবে কাটার পর, আস্তে আস্তে ক্লাসও বাড়লো, ক্লাসের বাইরে অন্যান্য কাজকর্মও বাড়লো।
বছর তিনেক নিয়মিতভাবে পড়ানোর সুযোগ পেয়েছিলাম নরেন্দ্রপুরে। তারপর নতুন চাকরি নিয়ে অন্যত্র চলে গেলেও, আরও বছর খানেক সেই প্রথম দিনগুলোর মতো সপ্তাহে একদিন করে পড়াতে আসতাম, যতদিন শ্রদ্ধেয় সাত্যকি দা বিভাগীয় প্রধান ছিলেন।
নরেন্দ্রপুরের ওই তিন বছর খুব আনন্দে কেটেছিল। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর অবকাশ ছিল – তাই পড়া এবং পড়ানো, উভয় ক্ষেত্রেই আমার শেখা থেমে থাকে নি। জীবনের অন্য সব সময়ের মতো, সেই তিন বছরও ভালো-খারাপ মিলিয়ে কেটেছে। ঠিক, ভুল – দুইই করেছি। নিজের ভুলে বা দোষে লজ্জিত হয়েছি পরে, শুধরে নিতে চেষ্টা করেছি। যা কিছু ভালো, তাতে বিশ্বাস রেখেছি।
সেই সময়ে যাঁদের সঙ্গে টিচার্স রুমে থেকেছি, এবং ক্লাসে যাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, সকলের কথাই মনে পড়ে। কেউ কেউ আজ আর নেই। যারা আছি, যে যার ক্ষেত্রে আমরা সবাই যেন ভালো থাকি।
Comments
Post a Comment