সাধনার অনাদি তপোবন
কত কাজ, কত কথা না-বলাই থেকে যায়। কাজকে বড়-ছোটোয় ভেঙে নিই আমরা, কথায় কথায়। 'বড় বড়' স্বপ্ন, 'বড়' কাজের জন্য ত্যাগস্বীকার করতে থাকেন 'ছোট ছোট' মানুষেরা, 'ছোটখাটো' কাজে। সেইসব বড় বড় কাজের সাফল্যও বিপুল, ব্যর্থতাও বিস্ফোরক। খবরে আসে তারা – পাতায় পাতায়, কথায় কথায়, দেশের, দশের, বন্ধুদের, পরিবারের। সেই সাফল্যের বিভায় দশদিক জ্বলে যায়; সেই ব্যর্থতার ধুলোমাখা শোকযাপন চলে মাস, বছর পেরিয়ে। যুগ আসে, যুগ যায়। তারপর একদিন সভ্যতা চাপা পড়ে যায়। নতুন সভ্যতা গড়ে ওঠে। মাটি খোঁড়ে মানুষ। ভগ্নস্তূপ, প্রাচীর, ভাঙা পাথরবাটি, মমি, জীবাশ্ম দেখে বিগত স্বপ্নের ব্যাপকতা অনুমান করা যায় না।
অথচ যাঁরা সভ্যতা ভস্মীভূত হওয়ার বহু আগেই হারিয়ে গিয়েছিলেন, হারিয়েই বেঁচেছিলেন, যাঁদের থাকার একমাত্র পরিচায়ক ছিল তাঁদের সেইভাবে না থাকা, যাঁরা দৈত্যাকৃতি স্বপ্নের জন্য আশা, আকাঙ্খা, সোহাগ, সাহচর্য ছেড়ে ক্রমশ কুঁড়েঘর, একফালি ঘাসজমি, গুল্মলতা, শেষে তার না-ফোটা কুঁড়ির সাজে একেবারে মিশে গিয়েছিলেন মৃত্তিকার স্বাভিমানটুকু হয়ে, আজ তাঁদের সেই ত্যাগ এক-একটি মহীরুহ হয়ে, সাধনার অনাদি অনন্ত তপোবন জিইয়ে রেখেছে।
Comments
Post a Comment