Followers

কালীপুজোর থিম সং

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে যে কারণে কোনোদিনই ক্ষমা করা যাবে না, তা হলো এই একটা দিনের ক্যাপশন হিসেবে উনি একটাই গান লিখেছিলেন। 'হিমের রাতের ওই গগনের দীপগুলি রে'। ব্যাস। এটুকুই। গীতবিতান উলটে, সোজা করে, ঝেড়ে ভাজাভাজা করে ফেলেও, Whatsapp আর ফেসবুকের জন্য এই গান ব্যতীত ভদ্রলোক আর একটুও সাহায্য করছেন না বাঙালিকে। ফলত, আজ সকাল সাতটায় ঘুম ভাঙার পর যখন কান পেতে, চোখ মেলে ধরার বুকে প্রাণটা জাস্ট ঢালতে যাবো, whatsapp এর গ্ৰুপে "ঘরে ঘরে ডাক পাঠালো-- দীপালিকায় জ্বালাও আলো"। অন্য গ্ৰুপে "জ্বালাও আলো, আপন আলো, সাজাও আলোয় ধরিত্রীরে।" তৃতীয় একটি গ্ৰুপে "জ্বালাও আলো, আপন আলো, শুনাও আলোর জয়বাণীরে।" একজন পিদিমের ছবি পাঠিয়ে আধঘন্টা পর লেট সাবমিশনের মতো ফরোয়ার্ড করছেন "যাক অবসাদ বিষাদ কালো, দীপালিকায় জ্বালাও আলো HAPPY DIWALI 2 U N UR FMLY 🤡🤡"। বেলা এগারোটা। চড়চড় রোদ। ফেসবুকে "হিমের রাতের ওই গগনের দীপগুলি রে"। না জ্বলছে দীপ, না পড়ছে হিম, কম করে বিকেল গড়িয়ে সন্ধেও হয় নি। অথচ অন্য কোন গান দেওয়া যায়, সে নিয়ে একটু বেশি ভাবলেই "যেতে যেতে একলা পথে নিবেছে মোর বাতি", "কোথায় আলো, কোথায় ওরে আলো" এসব মনে পড়ছে। গীতবিতান দাপিয়ে এই একটি মোটে আলোর গান, কী জ্বালা। অতএব, নো ইস্যুজ়, ধর তক্তা মার পেরেক! 

তাছাড়াও ভেরিয়েশন বেরিয়েছে লিরিক্সের। 'হিমের রাতে ওই গগনের দ্বীপগুলি রে"। মাধ্যাকর্ষণের কালজয়ী অ্যান্টিথিসিস। দ্বীপ সব গগনে, এক এই বাঙালিই নিচে, লাইফবয়ের ০.০১% জীবাণুর মতো।

Comments