Followers

ফরোয়ার্ডের জ্বালা

এদিকে কি হয়েছে, whatsapp গ্ৰুপে একজন বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছা ফরোয়ার্ড করেছেন। আর যায় কোথায়, রাজা উজির মন্ত্রী সান্ত্রী পল্টন সবাই মিলে সে কী সমবেত কাঁইকাঁই শাসানি, "প্রীতি ও শুভেচ্ছাটুকু নিজে জানাতে পারেন না! অন্যের মেসেজ ফরোয়ার্ড করছেন! চারটে তো শব্দ, নিজে লেখার মুরোদ নেই! আপনাদের মতো মানুষদের জন্যই আজ দুর্গাপূজায় এত দড়ি..."। এতদূর দেখে আমি সবে কফিটা আনতে গেছি, যে গুছিয়ে বসে বাকি এপিসোডটা দেখবো, এসে দেখি admin এর মধ্যেই নেমে "আস্তে, আস্তে" করে বাস থামাচ্ছেন। হালকা দুঃখ পেলাম যে পোস্ট-বিজয়া ফান্ পেতে পেতেও পেলাম না, আবার একইসঙ্গে ভালোও লাগলো, মানুষ এখনও কেমন মানুষের কথা ভাবে! 

কিন্তু না, রসবেত্তা admin আমার। তিনি সব থামিয়ে "যাও সব নিজ নিজ কাজে" না বলে বললেন "যা বলবার, একে একে বলুন।" তারপরেই একটা মাল্টিডাইমেনশনাল ডিসকোর্স শুরু হয়ে গেল। এমনিতেই বাঙালির রাগের সঙ্গে ভুল বানানের সে এক আলাদাই লীলা। গ্ৰুপে তখন প্রায় সবারই নিজেকে cheated লাগছে ফরোয়ার্ডেড প্রীতি পেয়ে। রাগে যেমন ঝটকা দিয়ে দিয়ে কাঁপুনি আসে, বানানও সেইমতো যুক্তাক্ষর আর য-ফলার চাষ করছে। যদিও সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক, তবু কে একজন এসে "হীন্যমন্ন্যত্যা" বিষয়ে দু কথা শুনিয়ে গেলেন। একজন বললেন "প্রিত্তিতন্ত্রের কালো হাত আপনি, শুভেচ্ছা জানাতেও ... ছি ছি ... আমি তো ব্বাবতেও পারছি না...,,,,....."। তাতে আর কার কী হলো জানি না, তন্ত্রের কাঠামোগুলি নিশ্চয়ই বল্টু খুলে হা হা করে পড়ে গেছে এতক্ষণে।

ইতিমধ্যে সেই গ্ৰুপের যিনি শান্তম শিবম অদ্বৈতম (সব গ্ৰুপেই একজন এমন থাকেন), তিনি জেগে উঠেছেন। তাঁর তখন এটা না বললেই নয় যে পাশ্চাত্য থেকে ফিরে বেলুড়ের গঙ্গায় ঢেউ দেখে স্বামীজীর কী মনে হয়েছিল। এ অবশ্য নতুন নয়; প্রতি সন্ধেতেই এই একটা সময়ে -- সে পৃথিবী মাধ্যাকর্ষণ মাথায় উঠুক, সমস্ত গ্ৰুপ মেম্বার গ্ৰুপ ছেড়ে বেরিয়ে যান, পুজোয় 'আর কত রাত একা থাকবো' চালানো বন্ধ হয়ে যাক -- উনি দু চার কথা বলবেনই বলবেন, আজ প্রফুল্ল রায়ের মোজার রঙ নিয়ে, কাল জগদীশ বসুর বাড়ির চা-পাতারা কেন বেশি সজীব সে নিয়ে, পরশু শিলং পাহাড়ে থাকাকালীন রবীন্দ্রনাথের কাশির রেকর্ডিং কারা করেছিল সে নিয়ে। শুধু বলবেন, এমনটাই নয়, সব শেষে একটা একটা করে মেসেজে একটা একটা করে বইয়ের নাম দেবেন তথ্যপঞ্জি হিসেবে। কেউ পড়ুক, না পড়ুক। জানাক, না জানাক। উনি সময়ের ভাই, কারুর জন্য অপেক্ষা করেন না। সে না দেখলে ভাবা যাবে না এমন নিবদ্ধতা। তো আজ স্বামীজী বেজায় ফেঁসেছেন। গ্ৰুপে তখন কুরুক্ষেত্র, আর ফাঁকে ফাঁকে প্রায়ই ঢুকে পড়ছেন সেই মানুষটি। 
"বর্বর"
"শীত বিকেলের শেষ রোদ ঢেউয়ের বিভঙ্গে লুকোচুরি খেলছে তখন। নৈস্বর্গিক নিস্তব্ধতা ভেঙে স্বামীজী বললেন"
"অসভ্য"
"আমরা এই অপমানের লকপেরদ্দ্ভবশ্বসওয়াওয়া চাই"
"শ্রান্ত স্বামীজীর পায়ের কাছে খেলা করছে কয়েকটি স্থানীয় শিশু কিশোর"
"বার করে দিন! বার করে দিন একে গ্ৰুপ থেকে!"
"সিস্টার, আমি ভারত মা কে খুঁজে পেয়ে গেছি!"
"কত বড় সাহস! লিখতে পারে না, আবার শুভেচ্ছা জানাতে এসেছে।"

এর পরে উদুম গালাগালের মাঝে নীরবে, নিশ্চুপে একে একে ইঁট পাততে লাগলেন শঙ্করীপ্রসাদ বসু, স্বামী গম্ভীরানন্দ, শংকর, প্রমুখ। কারুর পৃষ্ঠা ৩৫-৪১, কারও ১৭৭-২০৩ খুবই কাজে এসেছে এই গোটা ডিসকোর্সে। শেষে দেখলাম, যিনি মেসেজটি ফরোয়ার্ড করে আজ এই কয়ামৎ-পার্টির ডাক দিয়েছিলেন, তিনিও সবার সঙ্গে মিলেমিশে সেই তো সেই তো করছেন। কেউ খেয়ালও করছেন না। আজব ...

Comments