টু মাই ডিয়ার হোরেশিও
সমস্ত বিশ্ব হবে একটাই নীড়? বাপ রে! সে কেমন কথা! ওই বিরাট বড় ব্যাপারটা, যাকে ভাবলে মাথার মধ্যে এক পাতার ওয়ার্ল্ড ম্যাপ ক্ষণিক আলোকে জ্বলে উঠে আঁখির পলকে অস্পষ্টতায় মিলিয়ে যায়, সে হবে এই ঘরোয়া, পাখির বুকের মতো নরম, একান্তে আনমনা থাকা শব্দ 'নীড়'? সে'ও সম্ভব?
ইয়েস, মাই ডিয়ার হোরেশিও! কতকিছু যে আছে অথচ আমি-তুমি জানি না, কত কী হয়ে চলেছে অথচ আমরা বুঝছিই না। এই যে যত বয়স বাড়ে, ওই বাইরের বিরাট গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ-শীতকে কেমন নিজেরই ভিতরের নির্জন ঠিকানা বলে বোধ হয়; এই যে আনন্দের দোলায় দিব্যি দুলছি জন ডেনভারের সুরে, দুঃখের ঝড়ের মধ্যে বেশ ছন্দ পাওয়া যাচ্ছে সলিল চৌধুরীর গণসঙ্গীতের; এই যে একেবারে অচেনা কোনও দূরদেশের মানুষ অসম্ভব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে অভীষ্টে পৌঁছচ্ছেন, অথচ তারপর উদ্দাম না নেচে তিনি মাথা নামিয়ে পৃথিবীকে সালাম জানাচ্ছেন এই জীবনের জন্য, আর সে কথা জেনে তোমার চোখেও না জানি কোন মন্ত্রে জল চলে আসছে; এই যে ফুল ফুটছে-বাড়ছে-ঝরছে, আকাশে তারা ওঠা, তারা খসা দেখছো, দেখতে দেখতে কী যেন একটা কেঁপে উঠছে মনে, অথচ স্পষ্ট বুঝছো না এ আসলে আমার-তোমার একজীবনেরই বাঁচা-মরার গল্প -- এই তো কেমন আমাদের ওয়ার্ল্ড ম্যাপের পাতায় ধরা না পড়া দূরের গল্পগুলো ঘরের কথা হয়ে যাচ্ছে, আবার বন্ধুসঙ্গে, অহেতুক প্রেমে যেমন নেচে উঠছে মন, তেমনই নাচছে কাপাসতুলো গাছের পাতা।
এটুকুই তো দেখে চলা, হোরেশিও। শিখলে, এটুকুই শেখা। যদি প্রাণের আদেশ হয়, বিশ্বকে নীড়, নীড়কে বিশ্ব ঠিক আপন করতে শিখবে একদিন।
Comments
Post a Comment