Followers

যশ ও সুন্দরবন

ঝড় থেকে কলকাতা বাঁচলো বটে, কিন্তু যাঁদের ক্ষতি হওয়ার, ঠিকই হলো। সুন্দরবন মূলত প্রস্তুতি নিয়েছিল ঝড় সামলানোর, গতবছরের অভিজ্ঞতা থেকে। কিন্তু এবার ঝড়ের চেয়ে বেশি এসেছে জল।  ওদিকে চাকরি করি, তাই অনেকেই যোগাযোগ করছেন ওদিকের খবর জানার জন্য। খবর যা পাচ্ছি ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বা সহকর্মীদের কাছ থেকে, জানাচ্ছি। সবার জ্ঞাতার্থে ---

১. ‌রায়দিঘি, কঙ্কনদিঘি এলাকা প্লাবিত। জল ঢুকে গেছে লোকালয়ে, চাষজমিতে, দেওয়াল ভেঙে জল ঢুকে পড়েছে কলেজ কম্পাউন্ডে। রাস্তা থেকে জল নামেনি।

২. ‌পাথরপ্রতিমা, মইপিঠে স্থলভাগ আর তেমন অবশিষ্ট নেই। জলই খেয়ে নিয়েছে সব। গতবছরের থেকে আস্তে আস্তে সামলাচ্ছিল জমিগুলি। আবার নোনা জল ঢুকে সবজি চাষ তিন বছরের মতো বন্ধ হয়ে গেল।

৩. ‌সাগরের ঘোড়ামারা দ্বীপ এই মুহূর্তে ১০ ফুট জলের তলায়। নদীর কাছে যারা ছিল, আগে থেকেই তাদের evacuate করা গেছিল; দ্বীপের মাঝে থাকা মানুষেরা ভাবেন নি এই অবস্থা হবে। তাদের উদ্ধার করার কাজ চলছে এখন। কতজন মৃত, জানা যায় নি। সমস্ত গবাদি পশু মৃত ওই দ্বীপের।

৪. ‌ভরা জোয়ারের সময় ওই অঞ্চলের যে ঘাট জলস্তর থেকে ২০ ফুট উঁচুতে থাকে, সেই ঘাট এই মুহূর্তে জলের ৮ ফুট নীচে। শেষ পঞ্চাশ বছরে এই প্রথম।

৫. ‌অগুনতি অঞ্চলে মিষ্টি জলের পুকুরে নোনা জল ঢোকার ফলে রুই, কাতলা, ভেটকি মাছ মরে হাজার-হাজার টাকার ক্ষতি। এই মুহূর্তে সবজি বা মিষ্টি জলের মাছ চাষ বন্ধ। হয় সামান্য সরকারি ভাতায়, বা দিনমজুরি করে, বা সম্ভব হলে নোনা জলের মাছ চাষ করে জীবনধারণ করতে হবে। নোনা জমিতে প্রচুর পরিমাণে চুন দিলে এক বছরের মধ্যে চাষযোগ্য হতে পারে তা, কিন্তু সেই পরিমাণ চুন কেনার টাকা কোনও মানুষের খুব একটা নেই সে অঞ্চলে।

৬. ‌গতবছর রায়দিঘি পেরিয়ে কুমড়োপাড়া গ্রামের প্রত্যন্তে (মণি নদীর তীরে) ত্রাণকার্যে গিয়েছিলাম। সেই জায়গার আর কোনও চিহ্ন নেই। মানুষেরা আগে থেকেই বেরিয়ে এসেছিলেন, তাই প্রাণহানি হয়নি। কিন্তু আর বলার মতো কিছু নেই সেখানে।

পরশু থেকে জল বাঁধ ভেঙে, উপচে ঢুকতে শুরু করেছিল। কাল দু বেলার জোয়ারে সবই ভেঙে গেছে। আজ প্রতিপদের জোয়ার গেলে, আশা করা হচ্ছে জল আস্তে আস্তে নামবে। তারপর দু' দিন গেলে বোঝা যাবে পরিস্থিতি।

Comments