Followers

'অবিস্মরণিকা': একটি পাঠ

গত ২৭শে মার্চ থেকে 'সিলি পয়েন্ট' অনলাইন পোর্টালে শুরু হয়েছে ছবি ও কবিতার একটি যুগলবন্দি, 'অবিস্মরণিকা'। শিল্পী ঐন্দ্রিলা চন্দ্র, কবি রোহন রায়। সাধারণভাবে একটি প্রয়াস শেষ হলেই তার আলোচনা করা দস্তুর, মাঝপথে নয়; কিন্তু আমি নিরুপায়।

সিরিজের প্রতিটি আলাপের শুরুতেই মুখবন্ধ হিসেবে যায়, অবিস্মরণিকা "না বলে এক চলে যাওয়ার গল্প"। এই চলে যাওয়ার বিপরীতে যে মানুষটি থেকে যায়, তার উচ্চারণ এই ছবি-কবিতা। "চলে যাওয়ার গল্প" সততই শোকের হলেও, তার মধ্যে একধরণের স্বাভাবিকতা কাজ করে কোথাও; কিন্তু "না বলে" কথাটি সামনে বসিয়ে ঐন্দ্রিলা এবং রোহন সেই শোকের দিগন্তে যেন দিকনির্দেশের আভাস দিয়েছেন। বলে না যাওয়ার মধ্যে এক ধরণের বিমূঢ় করার প্রবণতা আছে বটে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি আছে থেকে যাওয়া মানুষগুলির এক অভিমান, ঠকে যাওয়া। মানুষ অন্যজনের প্রাণের 'পরে বসন্তের বাতাসটুকুর মতো চলে যায়, তাকেও শুনতে হয় "সে চলে গেল, বলে গেল না/ সে কোথায় গেল, ফিরে এল না"। যে স্বল্পদৈর্ঘের সম্পর্কের সুতোগুলো প্রেমে বাঁধতে থাকি আমরা, তা ছিন্ন হলে বলে না যাওয়ার দোষ আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। সব চলে যাওয়াই হয়তো না বলেই যাওয়া, তবু 'এলাম' --- এই আভাসটুকু কেন দেবে না সে, যে গেল?

আমি চিত্রশিল্পের যে খুব সুচারু আলোচক, এমন বলতে পারি না। কোনও চিত্রকে তার অংশে ও সামগ্রিকতায় নিজের মতো অনুভব করি ঠিকই, কিন্তু সেই অনুভূতি প্রকাশে অনেক সময় সমর্থ হই না। আজ অব্দি প্রকাশিত সিরিজের সাতটি আলাপে ঐন্দ্রিলা চন্দ্র যে ছবিগুলি এঁকেছেন, তাতে এক বা দুজন মানুষের উপস্থিতি ক্ষেত্রবিশেষে। আমার কাছে এই প্রতিটি ছবিই এক একটি dreamscape -- মানুষ, প্রকৃতি ও তাদের আবরণ যাতে মিলে আছে। রোহন রায়ের কবিতাগুলির অধিকাংশেরই প্রশংসায় কিছু বলার চেষ্টা করাও বৃথা; বোধ হয় নীরবতাই এই যুগলবন্দির একমাত্র উত্তর হতে পারে।
   
"ভাবতে পারেন? একটা মানুষের ভিতরে 
হাত পা গুটিয়ে
ভ্রূণের মতো বসে আছি -
কিচ্ছু করতে পারছি না। জাস্ট কিচ্ছু না। 

সময় লাগবে, বলছে লোকজন। 
বেরোতে নাকি সময় লাগে। হতে পারে, 
কিন্তু একটা কথা আমি বুঝতে পারছি না - 
যে নেই তার মধ্যে থেকে 
কেউ বেরোবে কী করে?"

বা

"যে মানুষ নেই
তার প্রিয় ফুল কি ফুটছে না?

আমি তার স্রোতের শরীর ছুঁয়ে
যতদূর যেতে হয় যাব,
ফিরেও আসব আবার -

আমাকে ফিরে আসতে হবে।
ফিরে এসে দাঁড়াতে হবে
যে মানুষ নেই তার প্রিয় সূর্যাস্তের সামনে।"
   
এই কবিতা/ কবিতাগুলি মূল্যায়নের চেয়েও বেশি দাবি রাখে আপনার, আমার পাঠ। যাঁরা এই লেখাটি পড়ছেন, অনুরোধ, সিলি পয়েন্ট পোর্টালে গিয়ে 'অবিস্মরণিকা' পড়ুন। আমরা শিল্পে, সাহিত্যে অধীত জ্ঞানের চেয়ে বেশি অপরোক্ষ অনুভূতিই কামনা করি। এই যুগলবন্দি যে না-বলে যাওয়ার যে বিমূঢ়তা, তারই অতিব্যক্তিগত প্রকাশ, সে বলার অপেক্ষা রাখে না। আবার একইসঙ্গে, সেই শোকের আলোচনা, জানা বা না-জানা নির্বিশেষে, আমার কাজ নয়। আধুনিক সময়ে একটি উল্লেখযোগ্য কাজ করছেন ঐন্দ্রিলা ও রোহন; সেটুকুর খবর আপনাদের কাছে পৌঁছে দিলাম।
   
'অবিস্মরণিকা'র প্রথম আলাপের লিঙ্ক শেয়ার করলাম নিচে ---
https://www.sillypoint.co.in/post_page.html?id=iaOiGRzZkryuzUH2niWL

ঐন্দ্রিলার আঁকা একটি ছবিও এখানে শেয়ার করলাম, তাঁর বা সিলি পয়েন্টের অনুমতি না নিয়েই। সে জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।

সিরিজ এগোতে থাকুক।

Comments