Followers

দ্বিতীয় ঢেউ ও একশ বছর আগেকার কথা

'বইপোকা' গ্রূপের সদস্য গৌরব বিশ্বাসের পোস্টে এই গ্যাজেটের লিঙ্কটি পেলাম। পত্রিকাটি নজরে আনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁকে। 
  
এবার মূল কথা। নভেম্বর ১৯২৩ সালে প্রকাশিত ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল গ্যাজেটের এই সংখ্যায় ডঃ ই. এস. ফিপসনের 'The Pandemic of Influenza in India in the Year 1918' লেখাটিতে ১৯১৮-র অতিমারীর সেকেন্ড ওয়েভের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গাগুলি দাগানো আছে নিচের ছবিতে। অবস্থার সঙ্গে আজকের দিনের অনেকটাই মিল পাবেন। বিধিনিষেধের উঠে যাওয়া, তারপরেই সাংঘাতিক হারে সেকেন্ড ওয়েভের আক্রমণ, লাফিয়ে লাফিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলা। শেষে যত্রতত্র মৃতদেহের পড়ে থাকা, কারণ পোড়ানোর কাঠ নেই।


এর কিছুটা আমরা পেরিয়ে এসেছি, আর কিছুটা চলেই আসবে কদিনের মধ্যে। হাতে কতটা সময় আছে, জানা নেই। রাস্তায় নেমে সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স মেনে চলা আমার-আপনার একার হাতে নেই। সেটা সমষ্টিগত বোধের বিষয়, কথা না বলাই ভালো সে নিয়ে। কিন্তু মাস্ক, এবং স্যানিটাইজার যার যার নিজের নিজের। প্লিজ মাস্ক পরুন, আবার, আগের বছরের মতো। প্লিজ। কথায় কথায় হাত স্যানিটাইজ করুন, প্লিজ। সামনের কয়েকটা দিন আসুন, নিজেদের বুদ্ধি বিবেচনা কাজে লাগিয়ে একটু সাবধানে থাকি। নিতান্তই বিচলিত না হলে এমন পোস্ট করতাম না। ভয় ছড়ানোর পোস্টের খামতি নেই। কিন্তু এখন যখন রাস্তায় বেরিয়ে দেখি তথাকথিত সচেতন মানুষ মাস্ক খুলে পকেটে ঢুকিয়ে থুতু ফেলছেন এদিক ওদিক, আহ্লাদে হাত পা ছুঁড়ে ছুঁড়ে হাঁচছেন, কাশছেন, বিচলিত লাগে। নিত্যদিনের কাজে বেরোনো অনেকেই বন্ধ করতে পারবো না হয়তো। কিন্তু একটু সামলে চলি, আসুন। নিজের অযত্নে যেন নিজে বা অন্যে কষ্ট না পাই, প্লিজ।
  
আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরে থাক, উল্টে মানুষকে রোড শো, পথসভা, জমায়েতে যেতে উদ্বুদ্ধ করছেন। ১০০ বছর আগের এই ঘটনার বিবরণ উঠে আসছে আমেরিকার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিনের সৌজন্যে। পুরো লেখাটি পড়তে চাইলে, সেই লিঙ্কও এখানে দিয়ে দিলাম: https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC5178767/?page=12
   
পড়ুন। শেয়ার করুন। যা মনে হয় করুন। কিন্তু দোহাই, নিজের ও নিজের কাছের মানুষগুলোর কথা ভেবে একটু সাবধানে থাকুন কটা দিন।

Comments