Followers

সৃষ্টির পাগল

গতকাল সন্ধে থেকে কথা নেই বার্তা নেই, হাওয়ার বহর শুরু হলো। দক্ষিণ জানালার পর্দা যাই-যাই বলে, পূর্বের আবরণ আগেই উড়ে গেছে। দুপুর-বিকেলের তাপের ক্লান্তি বেশ মুছে যায় এমন হলে। রাতের দিকে ঘড়ির কাঁটা গড়াতেই শুনি, মেঘ ডাকছে। তারপর অবশ্যম্ভাবী যা নামার, নামলো। ঝড় বা বৃষ্টি, কোনোটাই মুষলধারে নয় অবশ্য। বাগানকে মালীরা স্নান করিয়ে দেন যেমন, আকাশও যেন তেমনই, এই আকালের শুনশান রাস্তায় তার জলঝারি উপুড় করেছে।
  
মাঝরাতে হাওয়ার বেগ বাড়ল, সঙ্গে বৃষ্টিও। দরজার হেলদোল দিব্যি কানে এল। এ-ই কি তবে রাতের কড়া নাড়া? ভোরও কেমন নিঃঝুম, আচ্ছন্ন মেঘে। আজ দেশজোড়া কার্ফুর ডাক, মহামারীর আশঙ্কায়। মেঘও নড়ছি না - নড়বো না হয়ে বসে আছে। 
  
কিন্তু না, প্রকৃতির দেশে কার্ফু জারি হয় না। একটু পরেই রোদ উঠলো এমন, যেন গতকালের সবটুকু বৃষ্টি কোনো স্বপ্নে হয়েছিল, ঝড় উঠেছিল সে অন্য কোনও দেশে, যেন এই রোদ ছাড়া আর সব মিথ্যে। কাঠগোলাপ গাছে প্রতিদিনের মতো ফুল ফুটেছে, তার গায়ে সূর্য ঝলমল করছে। মানুষ রাস্তায় বেরোয় নি, তাই কোনো শব্দ, গোলমাল প্রকৃতিকে ছুঁয়ে নেই আজ। জানি না আজ বিকেলে আবার ঝড় আসবে কিনা।
  
"এই সৃষ্টির মধ্যে একটি পাগল আছেন, যাহা-কিছু অভাবনীয়, তাহা খামকা তিনিই আনিয়া উপস্থিত করেন। ... ইহার হাতে বাঁশি নাই, সামঞ্জস্য সুর ইহার নহে, বিষাণ বাজিয়া উঠে, বিধিবিহিত যজ্ঞ নষ্ট হইয়া যায়, এবং কোথা হইতে একটি অপূর্বতা উড়িয়া আসিয়া জুড়িয়া বসে।" ('আত্মপরিচয়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

Comments