Followers

অবতারণা (অনুবাদ)

('Preludes' by T. S. Eliot)
    
   
শীতসন্ধে থিতু হয়
গলিপথে, কাবাবের গন্ধে বেশ।
ঠিক ছ’টা।
ধোঁয়াটে দিনের কিছু পুড়ে যাওয়া শেষ।
আর এইবার, ঝোড়ো এক বৃষ্টি নেয়
নষ্ট পাতাভার তোমার পায়ের কাছে, আর
শূন্য কিতা জুড়ে যত কাগজেরা আছে;
সে বৃষ্টি আছড়ায়
ভাঙা জানলায়, চিমনি চোঙে
আর ওই এক কোণে, রাস্তায়
একাকী টানাঘোড়া। ফুঁসে ওঠে। ক্ষুরের আঘাত।
  
তারপর, বাতি ঘিরে জ্বলে ওঠা রাত। 
   
  
সকাল জেগেছে চেতনায়
কাঠগুঁড়ো-পেষা পথে
বাসি বিয়রের মৃদু ঘ্রাণে,
যে পথ মাড়িয়ে যায় 
কাদামাখা পা-গুলো, প্রভাতী কফির সন্ধানে।
সময়ের আরও ছদ্মবেশ
যা যা আছে, মনে পড়ে,
সমস্ত হাত, যারা তুলে ধরে
নোংরা আঁধার, ছায়া
সহস্র সজ্জিত ঘরে।  
   
   
সরিয়েছো কম্বল বিছানার ধারে,
শুয়ে আছো চিৎ হয়ে, অপেক্ষায়;
চোখ লেগে গেছে, আর দেখেছো, রাত্রি বোনে
হাজারো ক্লিন্ন ছবি --
তোমার সত্ত্বার উৎস, বলা যেতে পারে;
মিটিমিটি জ্বলে ওরা সিলিঙের গায়ে। 
আর সম্বিৎ যেই ফিরে আসে,
আর ঝিলমিল বেয়ে ওঠে আলো 
আর নালাজুড়ে চড়া’য়ের ডাক শোনো যেই,
এমন পথের ছবি দ্যাখো তুমি
যেই ছবি পথও না বোঝে;
শয্যার ধারে বসে, যেইখানে
কাগজ ছাড়িয়ে ফেলো চুল থেকে,
কিম্বা আঁকড়ে ধরো হলদেটে পা-পাতা
ময়লা হাতের মুঠো দিয়ে।
   
   
তার আত্মার নিখুঁত বিস্তার আকাশের এ’ মাথা ও’ মাথা
মিলিয়েও যায় ওই বহুতল শেষে,
অথবা দলিত হয় একরোখা পায়ে
ঘড়িতে চারটে, আর পাঁচটা, আর ছ’টায়;
আর খাটো, চৌকো আঙুলেরা পাইপে তামাক ভরে 
আর সন্ধ্যার পত্রিকা, আর চোখেরা
আশ্বস্ত নিশ্চিত নিশ্চয়তায়।
অন্ধকার এই পথের চেতনা 
অধৈর্য, পৃথিবীকে ধারণ করায়। 
   
এ’সব দৃশ্যঘেরা খোয়াবেই অভিভূত আমি,
ধরে রাখিঃ
অনন্ত সুন্দর, অসীম ক্লিষ্ট কোনো মুখের
প্রতীতি।
   
বাদ দাও স্বপ্ন যত! আর হেসে ওঠো;
পৃথিবী এমনই চলে, 
প্রাচীন বুড়িরা যেন জ্বালানি জোগাড় করে 
শূন্য কিতা ভ’রে।

ছবি: পিন্টারেস্ট

Comments