ছোটবেলার ক্রিকেট: পিঙ্ক টেস্টের মুখে
এই পিঙ্ক টেস্ট ম্যাচ, সে নিয়ে হইচই, শহরের সেজে ওঠা, তিনদিনে ভারতের জয়, কোহলির চোখ-জুড়োনো কভার ড্রাইভ, বিপক্ষকে অল-আউট করতে স্পিনার অব্দি যেতেই না হওয়া -- এই সব আধুনিক রূপকথা ছাড়িয়ে আমার সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে সেই সময়ের কথা যখন সৌরভের ভারতকে দেখে ভাবতাম, ক্রিকেটার হবো। কেন জানি না। হতে পারে সৌরভ এতদিন পর আবার কর্তৃত্বে আসার কারণে। না-ও হতে পারে। হঠাৎ কোত্থেকে যেন একমুঠো আবিরের মতো পুরোনো দিন চলে এসেছে।
ভারতকে গো-হারান হারতে দেখেছি। আবার চোয়াল-ভাঙা অনিল কুম্বলের লড়াইও দেখেছি। টি-২০ এর সুবাদে এখন বছরে ১০টা করে ম্যাচ পায় ইডেন। ৮টা টি-২০, ১টা টেস্ট, ১টা ওয়ান-ডে, সৌরভ বলছিলেন। এখন টেস্টে দিনে গড়পড়তা দশ হাজার লোক হয় ইডেনে। অথচ, আমরা খেলা দেখতে বুঝতে শুরু করার দিনে ইডেন প্রতি টেস্টের প্রতি দিন এরকম গমগম করতো। খেলা ভাঙার পর রেড রোডে জ্যাম হতো ভিড়ে। সকলের ফিরতি পায়ের জোরে শহীদ মিনারের মাঠে ধুলো উড়ত। তখন, ১৯৯৬ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর ইডেন ব্ল্যাকলিস্টেড, অভিশপ্ত। বোর্ড ম্যাচ দিতে চায় না। টেস্ট ম্যাচ হলে থিকথিক করে লোক, ওয়ান-ডে না-পাওয়ার দুঃখ ভুলে যায়। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১৯৯৮-এ আমার দেখা শ্রেষ্ঠ ক্রিকেট-শিল্পী আজহারউদ্দিনের ১৬৩ নট আউট। তার ঠিক আগের বছর সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট ম্যাচে ৭৭ বলে ১০১, ক্লুজনারকে এক ওভারে পাঁচটা চার, রিটায়ার্ড হার্ট অবস্থা থেকে ফিরে এসে।
তারপর ১৯৯৯-এ আবার অভিশপ্ত ইডেন। এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষ দিনের সকালে ৬৩ রান দরকার জিততে, হাতে পাঁচ উইকেট। ওয়াসিম আক্রম তখন সুইং বোলিং-এর প্রদর্শনী সাজিয়ে বসেছেন। সৌরভকে ফেরালেন। আর দু'উইকেট যেতে কমলালেবু ছোঁড়া শুরু হলো। লজ্জা, লজ্জা। পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়লো। বাবার সঙ্গে বেরিয়ে এলাম মাঠ থেকে। কলকাতা দেখালেন বাবা ঘুরে ঘুরে।
২০০১-এ সেই ইডেনে শেষ দিনের বিকেলে আম্পায়ার সুব্রত পোরেলের তর্জনী উঠলো আকাশে। ম্যাকগ্রা বিরক্ত, হতভম্ব। যত না সিদ্ধান্তে, তার চেয়ে বেশি 'আমরা হারতে পারি?!' -- এই মর্মে। আমাদের দেখা অন্যতম সেরা ভারতীয় ক্রিকেট টিমের পথ-চলা শুরু। আর স্কুলে, ক্লাসে, বোর্ড থেকে নোট নেওয়ার আড়ালে আর এক পেজে আমাদের ফিল্ড-প্লেসমেন্ট সাজানো। লাল-বাড়ির দেওয়ালে বল লেগে গেল কিন্তু চার। ওদিকে বেস্ট ফিল্ডারদের রাখবি...
Comments
Post a Comment