Followers

মর্ত্যে বড় দুঃখ

আপনি মন্থন-জাত অমৃত দিতেন মন খারাপে। যারা অল্প সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন, তারা অমৃতের মূল্য জানে। তারা বিষাদ নিয়ে আপনার কাছে নতজানু হতো, আঁজলা ভরে সে অমৃত পান করে সুখ পেতো। 
  
কিন্তু যারা এই অল্পের চেয়েও অল্প জ্ঞান সম্পন্ন, তারা ভাবতো, যে কোনো খারাপের উত্তর অমৃত। তারা অমৃতের মূল্য বুঝতো না। ভাবতো, আপনি মিষ্টির দোকান দিয়েছেন।
  
এরকম একদিন তাদের কয়েকজন এসে আপনাকে বললে, "আমাদের চরিত্র খারাপ। পাঁচশো অমৃত দে, খেয়ে ভালো হই।"
  
আপনি বললেন, ওভাবে হয় না।
  
রাগে দুর্বাসা হয়ে তারা শাসালে, "তবে ওদের বেলা যে ভালো করে দিলি? আমাদের বেলায় ভাও নিচ্ছিস?"
  
আপনি কিছুতেই তাদের বোঝাতে পারলেন না, মন ও চরিত্র ঠিক ততটাই এক, যতটা আম ও আমড়া, বা কুমড়ো আর কুমড়োপটাশ।
  
তারা আপনার অমৃতপাত্রে থুতু ফেলে, যে দিব্যচোখে আপনি সবার মনখারাপ পড়ে ফেলতেন সেই চোখ গেলে দিয়ে চলে গেল। আপনার মতো আরও অনেককে একইভাবে মারা হলো। এমনকি প্রকৃত মিষ্টি বিক্রেতারাও ভয়ের চোটে ঝুপঝাপ ঝাঁপি ফেলে পালাতে লাগলো।
  
আপনার ভারি অভিমান হলো। এরাই যখন মনখারাপ নিয়ে কোনোদিন এসেছিল আপনার কাছে, আপনি বুঝেছিলেন, কতটা সুধায় তারা সেরে উঠবে। সে মতো শুশ্রূষাও করেছিলেন। আপনার মনে হতে লাগলো, তাহলে কাকে আর বিশ্বাস করবো? হয়তো সবাই-ই এমন মারাত্মক কিছু করার ক্ষমতা রাখে। 
  
তবু, আপনি সব ছেড়ে গেলেন না। শুধু সেই বিষ মিশে যাওয়া অমৃত আঁকড়ে বসে রইলেন দেবাদিদেবের অপেক্ষায়, কারণ আপনার মনখারাপ সারানোর অমৃত শুধু তাঁরই জানা। তিনি এসে আপনার দুঃখের কথা শুনে সেই গরল কণ্ঠে নিয়ে নীলকণ্ঠ হবেন। তবে আপনার মনের ও ওই পাত্রের বিষমোচন হবে।
  
একদিন যায়। দু'দিন যায়। তিনদিন যায়। দেবাদিদেব শুধু একবার মুখ ঘুরিয়ে বলেন, "তোমাকে দুঃখহরণ বানিয়েছি কি দুঃখ পাওয়ার জন্য?"
  
আপনি আছেন। অমৃতও আছে। কিন্তু উপশম আসে না। প্রতিকার আসে না। আজ মর্ত্য খুব দুঃখে।

Comments