Followers

নিরুদ্দেশ, দুর্ঘটনা, ব্রেকিং নিউজ

এক্সাইডের মোড়। বিকেল পৌনে পাঁচটা। দু' নম্বর গেট থেকে দশ গজ দূরে সিগারেটের দোকান অব্দি আনুমানিক জনসংখ্যা ৫০। আনুমানিক ২০ জন মেট্রোর দিকে মুখ করে, সম্ভবতঃ ২৯ জন মেট্রো থেকে বেরিয়ে কোথাও যাওয়ার ভঙ্গীতে। একজন, একটি মানুষ, বয়স চল্লিশের কাছে, এই দু'মুখী ভিড়ের মাঝে স্থির আড়াআড়ি দাঁড়িয়ে। 
   
ভিড়ের অনেকেই গতিশীল, অনেকে ন্যুব্জ, অনেকে প্রগতিশীল। ভিড় এগোচ্ছে দুদিকেই। বহির্মুখী মানুষেরা ভূগর্ভমুখীদের টানছেন। উল্টো টানও পড়ছে। সময় বিকেল চারটে পঞ্চাশ। মধ্যবর্তী একা মানুষ তাঁর অবস্থান বদলান নি। আড়াআড়ি দাঁড়িয়ে। চোখ মেট্রো স্টেশনের দেওয়ালের গায়ে।
   
কলকাতার এক ঘূর্ণি আছে। যে কোনো ভিড়ে গা এলিয়ে দিলে তা বেশ বোঝা যায়। তেমনই ঘূর্ণি আছে আজকের এই দশ-পনেরো গজে। মানুষ তাই আর নিজে থেকে এগোনোর চেষ্টা করে না। সমর্পণ করে ভিড়ের কাছে নিজেকে। সবার চোখ হাতের ফোনের দিকে। স্থবির। ভিড় হাঁটছে। পলক পড়ছে। খুলছে। ইউটিউবে গান। ইয়ারফোন খারাপ। তাই কলকাতাও শুনছে তার সঙ্গে। ঘ্যানঘ্যানে বাচ্চা আব্দার করছে, মোমো খাবে। বাবা মাটির দিকেই তাকিয়ে বলছেন, কোথায়? গেটের স্ক্রীনে সময় বদলে বদলে যাচ্ছে ট্রেনের। ব্রেকিং নিউজ। আজ কলকাতায় এখনও অব্দি কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
  
মধ্যবর্তী একা মানুষের আশেপাশের বিরক্তির মুখগুলো বদলে যাচ্ছে। যাচ্ছে। তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। স্টেশনের দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে। বারবার নিজে পথচারী হয়ে বোঝার চেষ্টা করছেন, মেয়ের নিরুদ্দেশের পোস্টারটা ঠিক জায়গায় লাগানো হলো কিনা দেওয়ালে। সবার চোখে পড়বে তো? অনেক মানুষ এখানে। কিন্তু কেউ তাকায় না। সবার মাথা নিচু। 
   
দুর্ঘটনা ব্রেকিং নিউজের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে।

Comments