ছাতিম ও মৃত্যুবোধ
চিতার আগুনে সেই লেলিহান শিখা দেখা না গেলে বিদায়ের আভিজাত্য ঠাহর হয় না। গ্রামের প্রান্তরে তেমনই এক উদ্দাম চিতা জ্বলে উঠেছে আজ। স্বভাব-বসতির থেকে কিছুটা উঁচু জমিতে রাখা শবদেহের শান্ত ফুল, চাদর, খইয়ের ঠোঙা। আট কুঠুরি নয় দরোজার চেয়েও আরো শতাধিক প্রকোষ্ঠে ভাঙা কাঠের মালঞ্চে শায়িত বিগতপ্রাণ। অগ্নিমন্ত্র পড়ছেন স্থানীয় পুরুত। গর্বে, অহংকারে, স্তুতিবিভ্রমে আগুন দু' হাত আর গলা শূন্যে ছুঁড়ে দিয়ে আকাশ খেতে চায়। নক্ষত্রদের হয়তো আগুনের এই খর্বতা হাস্যকর লাগে, তবে আমরা, মৃতের অনাত্মীয়রা, একেই বলে থাকি লেলিহান শিখা। যা দেখে দুঃখ হয়, শ্রদ্ধা জাগে, মৃতের অনাবশ্যক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠা যায়।
শ্মশানপীঠের গায়ে লাগা ছাতিম গাছের নিচে জবুস্থবু হয়ে বসে আছে পরিজনেরা। এমন প্রবল গ্রীষ্মেও তাদের যেন শীত করে। বাতাস নিজেকে আহুতি দেয় আগুনে; আগুন ভাবে, এই তো শূন্য গিলে খাচ্ছি, আকাশ ফুঁড়ে উড়ছি। নিজের গৈরিক উর্বরতার ফুলকি সে ছেটায় চতুর্দিকে। পরিজনের অভিব্যক্তি ধরা পড়ে সে আলোয়, মৃতের বয়স অনুমান করা যায়। শান্ত গ্রামের দুর্বার প্রান্তরে দিনের শেষ চিতা জ্বলতে থাকে, আগুনও একসময় অহং, আড়ম্বর ত্যাগ করে মানুষের বুকের মতো হু-হু করে জ্বলতে থাকে। হাওয়ার টানে ছাতিম গাছটি ভাবে, বসন্ত ফিরে এসেছে। জীবনের মাস।
অথচ, এই ছাতিমের সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ক আমার কোনোদিনই ছিল না ...
© ৩১.০৫.১৯
Comments
Post a Comment