কবিতা লিখে রাখি দেওয়ালে দেওয়ালে
মনে হয়, কবিতা লিখে রাখি
ইউনিভার্সিটির দেওয়ালে দেওয়ালে,
এই নিপুণ, বোকাটে শহরে অন্ততঃ একটা কিছু হোক!
লোকাল ট্রেনের চওড়া টিকিটে একটা কবিতা লেখা যাক,
বা ফ্রেন্ডস কেবিনের তেলচিটে পেপার ন্যাপকিনে
ঝর্ণা কলম দিয়ে একটা কবিতা লিখে দিই তোমায়?
নিয়ে যাও দ্বারভাঙ্গার তে-তলার বারান্দায়।
পড়ে শোনাও কাউকে।
নিজেকে।
পুড়িয়ে ফেলো।
তারপর,
আশ্চর্য ম্যাজিকে সরস্বতী পুজোয় পথে
আলপনার বদলে কবিতা আঁকা হোক,
কলেজ স্ট্রীটে প্রত্যেক গ্র্যাজুয়েট যুবকের
বুকপকেটে চাকরির বদলে ভরে দাও কবিতা,
১৯৬০-দশক ফিরে আসুক।
যুবতীদের রুমালে কবিতার লাইন বোনা থাকুক, তাদের
ঠোঁটের নিচের ঘামের গন্ধ থাকুক তাতে,
অন্য নামের হয়েও তারা কারুর না কারুর মুখে "নন্দিনী" ডাক শুনে
মনে করুক, পলাশ ফুটলে মনে হয় আকাশে আগুন জ্বলছে।
আশুতোষ বিল্ডিংয়ের দেওয়াল জুড়ে
সমস্ত স্লোগান তুলে দাও, এগিয়ে যাও করিডোর দিয়ে
স্লোগান মুছতে মুছতে।
শোনো, তোমার পায়ের শব্দ আসলে মধুসূদনের অমিত্রাক্ষর,
দ্যাখো, একের পর এক
ক্লাসরুম,
দরজা,
বিপুল জানালার সরে যাওয়া এক আলেক্সান্দ্রাইন,
মনে করো,
সময়ের বিরুদ্ধতা করে সমস্ত বোমারু, যুদ্ধঘোষণার উত্তরে
তোমার জন্ম হয়েছে
এই এক শহরকে কবিতার উপযুক্ত করে তোলার জন্য।
ইউনিভার্সিটির দেওয়ালে দেওয়ালে আজ কবিতা লিখে দাও।
- শুভংকর। (২৭. ০২. ১৯)
Comments
Post a Comment