ছোটবেলার অস্ট্রেলিয়া টিম
১৯৯৬-এর অস্ট্রেলিয়ার ওয়ান-ডে ক্রিকেট টিমের সবার নাম আমার ইন্ডিয়া টিমেরও আগে মনে থাকতো। মোটামুটি প্লেয়িং ইলেভেন একই থাকতো। ব্যাটিং অর্ডারে প্রথম আটজনের মধ্যে ২ আর ৪, এবং ৬ আর ৮-এর অন্ত্যমিল থাকতো। সেভাবেই মনে রাখতাম --
মার্ক টেলর
মার্ক ওয়া
রিকি পন্টিং
স্টিভ ওয়া
মাইকেল স্লেটার
মাইকেল বেভান
ইয়ান হিলি
শেন ওয়ার্ন
তারপর আসতো অন্ত্যমিল ছাড়া তিন পেসার --
পল রিফেল
গ্লেন ম্যাকগ্রা
জেসন গিলেসপি।
এই ছিল দল। এর মধ্যে ছোটোখাটো রদবদল হতো কখনও সখনও। যেমন, স্লেটারের বদলে গ্রেগ ব্লিউইট বা স্টুয়ার্ট ল আসতেন মাঝেমধ্যে। ওয়ার্ন আঙুলে চোট পেয়ে বা নানা ঝামেলা করে বসে গেলে আসতেন ব্র্যাড হগ। আর কখনও রিফেলের জায়গায় এডাম ডেল, আর গিলেসপির জায়গায় ড্যামিয়েন ফ্লেমিং।
তখনও অস্ট্রেলিয়া ২০০০ সালের দানব হয়ে ওঠেনি। জেতে, হারেও। মানুষের মতো একটা দল। লড়াই করা যায় যার বিরুদ্ধে। অদ্ভুত ক্রিকেটিং স্পিরিট ছিল দলটার।
১৯৯৭ সাল। ডারবানে অস্ট্রেলিয়া আর সাউথ আফ্রিকা খেলছে। ম্যাচের শেষ ওভার। লাস্ট উইকেট পার্টনারশিপ অস্ট্রেলিয়ার। দু' বলে ছয় রান দরকার। ক্রিজে স্টিভ ওয়া আর নন-স্ট্রাইকার ম্যাকগ্রা সম্ভবতঃ। বল করছেন এলান ডোনাল্ড। লো ফুলটস। স্টিভ মিড উইকেটের দিকে ব্যাট চালালেন ছয় মারার ভঙ্গীতে। লাগলো না। লেগ স্টাম্প উপড়ে গেল। ডোনাল্ড স্টিভের দিকে তাকিয়ে হাসলেন, হাঁটুতে ভর দিয়ে। স্টিভের সেই বিখ্যাত smirk, চোখ সরু করে। দু'জন এগিয়ে এসে হাত মেলালেন। ক্রিকেট জিতল।
ওই বছরই, বা ১৯৯৮ হবে, পেশোয়ারে পাকিস্তানের সঙ্গে টেস্ট খেলছে অস্ট্রেলিয়া। মার্ক টেলর অপ্রতিরোধ্য ওপেন করতে নেমে। কেরিয়ারের একদম শেষ দিকে তিনি। ওয়ান-ডে থেকে সরে গেছেন আগেই। পরের বছর টেস্ট থেকেও রিটায়ার করবেন। সেই ইনিংসে ৩০০ পেরিয়ে গেলেন একটাও সুযোগ না দিয়ে কাউকে। সামনে লারার ৩৭৫ একেবারেই ধরাছোঁয়ার মধ্যে, কমেন্টেটররা আলোচনা করছেন, টেলর কী তাহলে নিজে ৪০০ করে ডিক্লেয়ার করবেন নাকি! লাঞ্চের ঠিক আগে, টেলর ৩৩৪-এ এসে সবাইকে হতভম্ব করে ডিক্লেয়ার দিয়ে দিলেন। ৪১ রান এগোলেই বিশ্বরেকর্ড, কে ছাড়ে!
টেলর ছাড়েন। সেদিন পোস্ট-ম্যাচ ইন্টারভিউতে বললেন, "৩৩৪ আমি পেরোব না কোনোদিন, সুযোগ পেলেও। ডন ব্র্যাডম্যানের কেরিয়ার বেস্ট ৩৩৪; আমার কাছে ওটাই অস্ট্রেলিয়ার শ্রেষ্ঠ হয়ে থাকুক। আমার নিজের সে জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই।"
Comments
Post a Comment