আসল কথা
প্রত্যেক পুরুষের অন্তরেই এক শক্তিশালী পুরুষ জন্মায় সময়বিশেষে, প্রত্যেক পুরুষই সময়ে সময়ে পরিত্রাতা হয়ে ওঠে, পরিবারের, সমাজের।
যেমন আমি।
আমি সমর্থ হয়ে উঠি, পরিত্রাতা হয়ে এই জীবনভূমে অবতীর্ণ হই নতুন কিসান জ্যামের শিশির ঢাকনা খোলার সময়। বা বেকায়দায় এঁটে যাওয়া দরজা খোলার সময়। এই দুটি বিষয়ে বাড়িতে সবাই যখন ফেল, আমি হেলান দেওয়া পজিশন থেকে ধীরে ধীরে উঠি। পিছনে কোনো দ্রিমিকি দ্রিমিকি দ্রিমি বাজে না। আমিই আমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক। এগোই ধীর গতিতে, সকলে বিস্ময়ে তাকিয়ে দ্যাখে -- আশা ভোঁসলের মতো কোথায় যেন দৈববাণী হতে থাকে, "দেখো, দেখো, উও আ গয়া" -- এইত্তো যুগপুরুষ এসেছেন জ্যামের শিশি খুলতে। তারপর এক মোচড়। খট শব্দে শিশি খুলে যায়। পাউরুটিরা আনন্দে নিজেদের সেঁকে নেয়। বা দরজা খুলতে হলেও, সজোরে টান। 'ভেঙেছ দুয়ার, এসেছ জ্যোতির্ময়'-পোজ। কেউ ছবি তোলে না, কারণ বাড়িতে আমার একারই স্মার্টফোন। কিন্তু আকাশে বাতাসে 'খিচিক খিচিক' আওয়াজ হয়; যুগ আমায় মান্যতা দেয়। পরিবার, সমাজকে আরো একদিন সচল রেখে আমি ফিরে যাই নিজের পজিশনে।
আসলে আমি নই, আমার হাতটাই খুব পোক্ত। নিজেকে নিয়ে যাই করে থাকি না কেন, হাতখানা বানিয়েছি দ্যাখো, শ্রমিক ইউনিয়নের লোগো। সুঠাম নয়, কিন্তু একটা Aryan the Unbreakable ব্যাপার আছে। খাটিয়ার পায়ার মতো। কখনও কোনো বিজ্ঞাপনে দেখেছেন, কেউ খাটিয়ার পায়ার গায়ে হাত বুলিয়ে বলছে, এই পায়াটার জন্যই খাটিয়া কেনা উচিত? দেখেন নি। কেউ বলে না। কিন্তু খাটিয়ার পায়ার উপযোগীতা নিয়ে কারুর কোনো সন্দেহ আছে? নেই। এই তো অবস্থা, ভালো জিনিস লোকে কেনে না, যেমন আমার বই আর অন্তর-রঙ্গ'র নাটক।
যাই হোক, আমার হাতের জোরও জয় গোস্বামীর চেয়ে অনেকটাই বেশি। ছোটবেলায় যে বয়সে মানুষকে ফাউন্টেন পেনে লেখা শেখানো হয়, আমি সে বয়সে ফাউন্টেন পেন ধরতাম "হেঁইয়ো"-মর্মে। চল কোদাল চালাই ভুলে মানের বালাই! দু' দিন লেখার পরেই নিব মাঝখান দিয়ে দু'দিকে রওনা দিত, আর আমিও একই পেন দিয়ে একই সময়ে একই পাতায় একই জিনিস পাশাপাশি দু'বার লিখতে পারছি দেখে পুলকে ফেটে যেতাম। সে দেখে পেনের শুভাকাঙ্ক্ষীরা সবাইই বললেন, তুমি বাবা লিঙ্ক গ্লাইসারেই লেখো, কালির কলম অসুরদের জন্য নয়। তারপর এই সমস্ত অপমান গিলে বহুবছরের চেষ্টায় আমি নিজেকে কালির পেনে লেখা শিখিয়েছি, এবং আজকাল তাতেই লিখি, এবং মাঝেমাঝে মুখ তুলে চোখ সরু করে সমাজের দিকে তাকাই। আমি ভাবি অপমানের উত্তর ওটা, কিন্তু আমি নিশ্চিত, বাকিদের এই gesture-টাকে জয়বাংলা মনে হয়। সূক্ষ্মতার অভাব! যাবে কোথায়!
যাই হোক, সেটা কথা না। আসল কথা হলো, আমার হাত ও এই সমাজের যোগ। আসল কথা সেটাও না। আসল কথা হলো, পুজোর ক'দিন পর আসল কথা বলে কিছু থাকে না। ফ্রিজ ভর্তি মিষ্টি, আরো আসার সমূহ সম্ভাবনা। এর মধ্যে আসল কথা থাকা সম্ভব? আপনারা আবার আসল কথা expect করে এতটা পড়লেনও! সত্যি, মানে...
Comments
Post a Comment