শক্তির অনুবাদে ফ্রস্ট
রবার্ট ফ্রস্টের কবিতা অনুবাদ করছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়। ‘Stopping by Woods on a Snowy Evening’ – বাংলায় নাম রেখেছেন ‘বনের ধারে সন্ধ্যায় তুষারে’। প্রথম দুই স্তবকে কবিতার গতিপথ অনুমান করা যায়; সাবলীল অন্ত্যঃমিল, নির্ভুল ‘syllable’-এর ব্যবহার সুরে বাঁধে কানকে। প্রথম চমক লাগে তৃতীয় স্তবকে। নিস্তব্ধ landscape-এ তার ঘোড়ার ঘণ্টির আওয়াজ বাদে ফ্রস্ট শুনতে পান “The only other sound’s the sweep/Of easy wind and downy flake” – প্রতিটি শব্দে বরফ-মোড়া কান্ট্রিসাইডের ছবি ফুটে ওঠে। সুন্দর, প্রশ্নাতীত; তবে আমাদের পরিচিত আর পাঁচটা ছবির চেয়ে আলাদা, দূরের। অনুবাদটি পড়তে গিয়ে অবাক হয়ে দেখি, শক্তি চট্টোপাধ্যায় ধরেছেন ইমেজগুলোকে নয়, তার মধ্যেকার শব্দকে, সেই “only other sound”-কে। বাংলা অনুবাদে লেখা, “কিন্তু, তার চেয়ে মধুর ধ্বনিভরা/ বাতাস সহজিয়া, বিধুর বনফুল”। এইরকম অবলীলায় কান্ট্রিসাইডকে গ্রামবাংলায় পরিণত করার পিছনে শুধু দুটি শব্দবন্ধ – “বাতাস সহজিয়া, বিধুর বনফুল”। “সহজিয়া”, “বিধুর” কথাগুলি সাংঘাতিকভাবে বাঙালীর ঔদাসীন্যের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। “Downy flake” –এর ইমেজ পাল্টে “বিধুর বনফুল” হয়ে যায় বটে, কিন্তু হঠাৎ বুঝি, সৌন্দর্য দৃশ্যপটে নয়, সেই “মধুর ধ্বনি”তে।
সহজিয়া বাতাস বনফুলের ওপর দিয়ে বইলে কেমন লাগে শুনিনি কোনোদিন, শুনব কিনা কখনও, তাও বলতে পারি না। কিন্তু অনুভব করতে পারি এখন।
কবিতার শেষে “Miles to go before I sleep” অনুদিত হয় “ঘুমের আগেভাগে, আমায় যেতে হবে/ অনেক পথ বাকি, আমায় যেতে হবে”। আবার ফিরে আসেন আমাদের কবি, ফিরে আসে তাঁর ‘চলে যাওয়ার’ কথা, যা তাঁর বহু কবিতাতেই ফিরে আসে বারবার। মৃত্যুকে ফেলে এগিয়ে যাওয়া, মৃত্যুকে প্রায় তুচ্ছ করে জীবনের দিকে আরও একবার এগিয়ে যাওয়া।
ছবি: পিন্টারেস্ট
Comments
Post a Comment