অর্ধনদী ২
অর্ধনদী - ২
========
- জীবনটা ঘুরে বেড়িয়ে কেটে গেলে বেশ হয়, বলো? বেশ আজ অরুণাচল, তো কাল আরব সাগরের উপকূল, পরশু উত্তরকাশীর কাছাকাছি একটা গ্রাম...
- গ্রীস, তুরস্ক, এইসবও লিস্টে থাকে যেন!
- গেলেই হলো! সময়ের কী অভাব আছে নাকি!
- বটে? একদিন সাড়ে ছটার সময়ে এলগিন আসতে বললে সোয়া সাতটা বাজে অন্ততঃ! পুরোনো চাকরি ছাড়ার আগে রাজার হাল কি চিরন্তন নাকি?
- চাকরিরা বরাবরই বদ। বিড়ম্বনা।
- বিশেষ করে ট্র্যাভেলিং জব হলে তো
বিবাহবিচ্ছেদের প্রভূত সম্ভবনা
- জমানো লীভগুলো নিয়ে নিই তবে?
- তাতে যদি শান্তি আসে,
দু'দণ্ড মুক্তি পাওয়া যায়!
- এভাবে বলবে তাই বলে?
হৃদয় এতই নিরুপায়?
- তার চেয়ে ভেবে বলো,
পরশু যাওয়ার আগে কী কী আর কেনাকাটা বাকি?
... অতঃপর, যাওয়া দূরে। দুজনের। একার, একার। ঘর করতে করতে ঘরের টান ছেড়ে ক'দিন পর পরই ছুট দু'জনের। জলে-জঙ্গলে-পাহাড়ে। দাম্পত্য ভ্রমণ বলা যায় না একে ঠিক। এরা বাইরে যায়, কারণ বহুদিন কাছাকাছি থাকা হয় না আর। পাশাপাশি থাকা কি কাছাকাছি আনে সবসময়?
শহরের রাস্তায়-ঘাটেও যদি এদের দুজনকে দেখা যায় সমান্তরাল পথচলায়, বা একটু আগুপিছু, তাতেও সংসারী শালিখ বিশেষ নখ বসায় না। ছোঁ মারে না। মনে হয়, এদের আসল সম্পর্ক কলকাতার প্রবহমানতার সঙ্গে। বাতাসেই যেন একমুঠো গা ছেড়ে দেওয়া, হেলান দেওয়া আলগোছে।
- কালকেই বাড়ি ফেরা। ভাল্লাগে?
- দু হপ্তা পর ডুয়ার্স! এবার ভাল্লাগছে?
- কিন্তু সে-ও শেষ হবে।
- হলে হবে। দিনকালস্থানপাত্র বদলে যায় যাক। এক থাকাকেই বা কবে তুমি মাথায় তুলে রেখেছিলে?
এরকম সংসার-রহিত যাপন স্বপ্নেরও ব্যতিক্রম, মনে হয়। কিন্তু আসলে কে আর কতটুকু জানে, বলুন! সংসার হয়তো বিচ্ছিন্ন হয়েই থাকে, আড়ালে, নিজেদেরও অচেতনে। সেই ছোটবেলার ভূগোল বইতে পড়া ফল্গু নদী। সে অন্তঃসলিলা। উৎসস্থল থেকে গতিপথে যেতে যেতে সে একফাঁকে কখন লাস্ট বেঞ্চির ছেলের মতো পালিয়ে যায়। কিন্তু সব্বাই জানি, সে ফিরে আসতেই পারে! তাই, সমক্ষে সে না এসেও, থাকে। এদের দুজনের মাঝের সংসার। ফল্গু নদীর ভনিতা, বা কবিতার দুই পংক্তির মধ্যেকার উচ্চারণ। মাটির অন্দরমহলে সেই নদী বয়ে চলেছে নিভৃতে। উপরে, এক অর্ধনদী উপত্যকা সেজে উঠছে ভ্রমণে, অপেক্ষায়, দূরত্বে, ব্যস্ততায়, অগ্রহায়ণের শেষ বাতাসে ধানজমির এলোমেলো হয়ে যাওয়ায় ...
Comments
Post a Comment