Followers

ইস্কুলবাড়ি

পথ ধরে রবীন্দ্রসদনের দিকে হাঁটতে হাঁটতে রাস্তায় চোখে পড়ে বহু পুরোনো এক ইস্কুলবাড়ি। ১৮৩২ সালে তার শুরু। এখন বিকেল হয়েছে, বড় লোহার গেট আধবন্ধ, তার ওদিকে দারোয়ানের চৌকি। আর চৌকির পাশের দেওয়ালের পেরেকে ঝুলিয়ে রাখা একটা ছোট্ট, খেলনা খেলনা ওয়াটার বট্‌ল্‌। নিশ্চয়ই কোনও পুঁচকে ছুটির পর সব ভুলে ছুট দিয়েছিল স্কুলবাসের দিকে, পেছনে রয়ে গেছে তার এই সম্পত্তি। নিশ্চয়ই বাড়িতে ঢুকে মায়ের মুখ দেখেই তার মনে পড়েছে জল-টিফিন খাওয়া হয়েছে কিনা ঠিকঠাক, আর অমনি...! “এই সেদিনের নতুন বোতলটা!”, খানিক বকুনি। কাল ইস্কুলে গিয়েই হারিয়ে-যাওয়া-জিনিস-জমা-রাখা কাকুর কাছে খোঁজ করতে হবে। অবিশ্যি জিজ্ঞেস করার আগেই চোখে পড়ে যাবে, অযত্নে পড়ে আছে পুঁচকে মেয়ের ততোধিক পুঁচকে জলের বোতল। “খেয়াল থাকে না কেন, হ্যাঁ?”, কাকুর আরও খানিক বকুনি। তা যা হোক, ফেরত পাওয়া গেছে। এবার কাল সারাদিন সে তার আদরের সম্পত্তি বুকে আগলে বসে রইবে, একদিনের অযত্ন ভোলাতে ঘন ঘন জল খাবে।
   
এসব আগামীকালের ঘটনা। আজ, পুঁচকে মেয়ের ওয়াটার বট্‌ল্‌ হারিয়েছে। আর দারোয়ানের জিম্মায় সেই হারিয়ে যাওয়া জিনিস দেখে আমি হঠাৎ খুঁজে পেয়েছি ছোটোবেলা।

ছবি: পিন্টারেস্ট

Comments