চিঠিপত্র: চিত্রশিল্পী রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথ পারতপক্ষে জীবনের শেষ কয়েক বছর চিত্রশিল্পী হিসেবে সচেতনভাবে নিজেকে প্রকাশ করেন, এবং সেই চিত্রভাষ যে কতটা স্বতন্ত্র, তা শুধু সমালোচকের দৃষ্টিতে কেন, আমাদের মতো কাঁচা চোখেও ধরা পড়ে। যদিও এই বিকল্প চিত্রভাষের জন্ম অনেকদিন যাবৎই, তাঁর কাটাকুটির মধ্য দিয়ে। সত্যজিৎ রায় ১৯৬১ সালে তৈরি করা কবির উপর ডকুমেন্টারিতে এই বিষয়টি ভারি সুন্দর করে দেখিয়েছিলেন মাত্র এক-দু' মিনিটে।
আচার্য জগদীশ বসুকে লেখা কবির একটি চিঠি আজ পড়তে গিয়ে নিজের আঁকা সম্বন্ধে তাঁর দুয়েকটি কথা পেলাম। ১৯০০ সালের সেপ্টেম্বর মাস --- কাজেই তাঁর তৎকালীন প্রয়াসগুলিকে রবীন্দ্রনাথ কাজের কাজ হিসেবে গণ্য করছেন না। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ছুঁয়ে যায় নিজের শিল্প নিয়ে মশকরা করতে পারার উদারতা, রসবোধ। 'চিঠিপত্র'-র ষষ্ঠ খণ্ডের এই ছোট্ট অংশটি দিলাম এখানে।
"শুনে আশ্চর্য্য হবেন, একখানা Sketch book নিয়ে ব'সে ব'সে ছবি আঁকচি। ... কুৎসিত ছেলের প্রতি মার যেমন অপূর্ব্ব স্নেহ জন্মে তেমনি যে বিদ্যাটা ভাল আসে না সেইটের উপর অন্তরের একটা টান থাকে। সেই কারণে যখন প্রতিজ্ঞা করলুম, এবারে ষোলো আনা কুঁড়েমিতে মন দেবো তখন ভেবে ভেবে এই ছবি আঁকাটা আবিষ্কার করা গেছে। এই সম্বন্ধে উন্নতি লাভ করবার একটা মস্ত বাধা হয়েছে এই যে, যত পেন্সিল চালাচ্ছি তার চেয়ে ঢের বেশী রবার চালাতে হচ্ছে, সুতরাং ঐ রবার চালানোটাই অধিক অভ্যাস হ'য়ে যাচ্চে --- অতএব মৃত রাফায়েল তাঁর কবরের মধ্যে নিশ্চিন্ত হ'য়ে ম'রে থাকতে পারেন --- আমার দ্বারা তাঁর যশের কোন লাঘব হবে না।"
Comments
Post a Comment