জন্মদিন: বিপ্রজিৎ
নরেন্দ্রপুর, অন্তর-রঙ্গ, সহশিল্পী, প্রিয় গায়ক, এ'সবের ঊর্ধ্বে বিপ্রজিৎ আর আমার মধ্যেকার একটা সাঁকো হলেন রবীন্দ্রনাথ।
আমার আর বিপ্রজিতের রবীন্দ্রনাথ চর্চা যৌথভাবে নয়। যার-যার নিজের মতো করে, নিভৃতে। কিন্তু আমাদের রবীন্দ্রনাথ বোঝা হয়তো বেশ অনেকটাই একরকম। এবং রবীন্দ্রনাথ নিজসাহিত্যের গণ্ডী পেরিয়ে অলক্ষ্যেই এমন বিরাট এক জীবনবোধ হয়ে ওঠেন, যে আমাদের বোঝাও রবীন্দ্রসাহিত্য পেরিয়ে ব্যক্তিগত চক্রে এসে পড়ে।
'নগরবাউল' লেখার সময় স্ক্রিপ্টে এক জায়গায় রবীন্দ্রনাথের গান ব্যবহার করেছিলাম। 'শূন্যসংকেত'-এও। দুবারই আমি সন্দিহান ছিলাম, অভিনেতা ও গায়ক হিসেবে বিপ্রজিতের সেই ব্যবহার পছন্দ হবে কিনা। কিন্তু স্ক্রিপ্ট নিয়ে অন্যত্র অনেক কাটাছেঁড়া হলেও, ওই অংশগুলো ঠিক একরকম রয়ে গেছে। শিল্পী হিসেবে এরকম আরেকজন সহশিল্পীকে পাওয়া যার রবীন্দ্রবোধ আমার সঙ্গে মিলে যায়, এটাই আমার খুব বড় এক প্রাপ্তি। কোনো বিষয়কে approach করার ভঙ্গী, বা প্রকাশ আমাদের অনেকাংশেই ভিন্ন। শিল্পে নিজের পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপারে বিপ্রজিৎ অনেক বেশি স্পষ্টবক্তা, উদ্যত। আমি হয়তো ঠিক ততটাই অলস, শ্লথ, এমনকি নির্বিকার। কিন্তু দু'জনেরই নিজেদের শিল্পের প্রয়োগের শেষ লক্ষ্য এক, এবং একই বোধ থেকে জারিত। এ বোধ হয় রবীন্দ্রনাথ না থাকলে হতো না।
সময় তার হাতে কী নিয়ে বসে থাকে, কে জানে! তবু, এই আশ্বাস পাই, যে এই পথ-চলা দীর্ঘ হবে। সুখের হবে। কার্যকরী হবে। প্রার্থনা এটুকুই, তা যথাসম্ভব অনাড়ম্বর, বাহুল্যবর্জিত ও নির্ভয় হোক। রবীন্দ্রনাথ সহায় হোন।
শুভ জন্মদিন।
Comments
Post a Comment