অপরাজিতা: গদ্য ২
আমাদের প্রাত্যহিক হেরে যাওয়া আছে কিছু। না-পারা আছে। ভয় আছে, ক্ষয় আছে। এ'সবের মুখোমুখি যে এক অসহায়তা, সে-ও আছে। খিদের মুহূর্ত ভেবে কারো হাতে খাবার তুলে দিতে গিয়ে বোঝা, আসলে সে আশ্রয় চায়, এবং বুঝে, কিছু না করতে পারার যে গ্লানি, আছে। প্রতিটা মৃত্যুসংবাদে নিজেকে অপরাধী মনে হওয়ার অনিবার্যতা আছে। বেঁচে থেকে, প্রয়াতের সন্তানের সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর যে গভীর কুণ্ঠা, আছে। সারাদিন ধরে নিজের নিজের সমূহ যন্ত্রণা কপচে, মনে মনে জানা যে এর চেয়ে শতসহস্রগুণ তীব্র দুঃখে-শোকেও মানুষ মহীরূহের নিচে দাঁড়িয়ে থাকে ঘাসফুল হয়ে, শিকড়ের আশ্বাসে, এবং জেনে, লজ্জিত হওয়াও আছে। এবং সর্বোপরি আছে এই সবের শেষে এক বোধের রূপ -- হেরে যাওয়াই বোধ হয় পরিণতি।
কিন্তু তখনই মনে হয়, বহু ক্ষুদ্রেও পৃথিবী কখনও কখনও বিশাল। বন্ধু আমাদের এই পথ-চলাকে বলে "সব শেষের শুরু, সব শুরুর শেষ", মনে পড়ে। মনে পড়ে, অপরাজিতা বলেছিল, পৃথিবীতে একদিন সব্বাই, সব্বাই শুধু ভালোবাসারই কথা বলবে; শুধুমাত্র তার সেই দিনটির জন্য আমায় লিখে যেতে হবে। দেখি, রবীন্দ্রনাথ পূর্ণের চরণের কাছে বসে সমস্ত 'নেই'-এর উত্তরে শান্তকণ্ঠে বলে চলেছেন, "আছে, আছে, আছে"...
তাই, আছে। তাই, আরও একটা দিন। তাই, সাহসের কথা বলে আসা মৃত্যুতে। সহজের কথা বলে আসা ভালোবাসায়। তাই, প্রতিমা নয়, প্রকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে কপালে হাত ঠেকানো। তাই, এই লেখা।
Comments
Post a Comment