Followers

দেখা

শহরের দুই প্রান্তে দেখা হচ্ছে চার বন্ধুর 
“এ পথে হঠাৎ?”
প্রশ্নটা গাড়ির হেডলাইটে গিয়ে ধাক্কা খায়,
কিঞ্চিৎ জটলা জমে ওঠে মোড়ে মোড়ে, সেই ফাঁকে
মুখ তুলে আজও চেয়েছে কেউ,
কেউ তা দেখেও দেখেনি। 
মজে যাওয়া গঙ্গা, বা ঝলমলে পুষ্করিণী,
নগরোন্নয়ন, বা দেওয়াল থেকে
অবশেষে মুক্তি পেয়ে যাওয়া গাছের চারাটি,
সমাবেশের ভাঙা ভিড়, বা নগর-লালন 
এই চার বন্ধুর কাউকেই চেনে না। 
   
পুড়ে যাওয়া সপ্তাহান্তে
মিলিত হয়েছে চার বন্ধু, আলাদা আলাদা ভাবে,
দুজনের সঙ্গে দুজনে।
এমনিতে এই চারজন পিঠোপিঠি থাকলেও
তাদের বৃত্তের অনেক গলিপথ, 
অধিকাংশ দিনই তারা এ সব পথে হাঁটে,
হাঁটতে ব্যস্ত থাকে, কোথাও পৌঁছুতে নয়।
বুঝতেই পারছেন,
শনিবার একজন যদি পরিধিতে এসে পড়েও বা, 
বাকি দুজন হয়তো মাঝপথে লাট খাচ্ছে,
একজনের খবর তো কেউ জানেই না। 
   
অতএব, রয়ে যেতে হয়।
একার ক্ষমতা নেই ছেড়ে যাওয়ার, তাই
রয়ে যেতে হয়। 
এভাবে এই চারজন বন্ধুর বৃত্ত ছাড়িয়ে
রাজপথের ডান বা বামদিকের সরু রাস্তায়
এমন অনেক চার বন্ধুর অসমাপ্ত বৃত্ত;
তার পরিধিতে দাঁড়িয়ে কেউ না কেউ অপেক্ষা করছে
অন্যজনের, 
দেখা হচ্ছে অন্য কোনও মুখের, 
(যার জন্য তারা ঠিক প্রস্তুত নয়)  
তাই রয়ে যেতে হয়,
ছেড়ে চলে যায় না আর কেউ, একা একা,
বন্ধুর কাছে।
ফোনে, ঘুমে, রাজপথে হঠাৎই তীব্র হয়ে ওঠে 
“দেখা হবে, ঠিক দেখা হবে”... 
   
কলকাতা খুশি হয় এমন নিত্যতায়।
দেখা – সে তো না হওয়ার জন্যই,
কথা – সে না বলার কথা, 
চার বন্ধুর মধ্যে সময়ের পাঁচিল তুলে
বসে আছে কলকাতা, আপাত অন্ধ কোনও দেশ। 
বাসস্টপে ঘড়ি দেখে
মুখ তুলে আজও চেয়েছে কেউ,
কেউ কেউ কথাও রাখেনি।

ছবি: পিন্টারেস্ট

Comments