অসঙ্গতিই হাসির কারণ
ক্লাস এইট বা নাইন হবে, বিকেলের শেষ ক্লাসে বাংলা স্যর। 'ব্যাঙের আধুলি' নাম্নী গল্পে ব্যাঙ ধুতি আর জুতো পরে বেশ কোথায় একটা যাচ্ছে, এই অবস্থায় স্যর মুহূর্তের slip of tongue-এ বললেন "জুতি আর ধুতো"। ওঁর থেকে হাত দেড়েকের দূরত্বে ফার্স্ট বেঞ্চে বসে আমি প্রায় রিফ্লেক্স একশনে সাবলীলভাবে দু'বার জোরে "হা হা" করে একদম চুপ করে গেলাম। উত্তরোত্তর বেঞ্চ কাঁপতে লাগলো, আমি বেগুনি হতে লাগলাম। হাসি করোনার মতোই ছোঁয়াচে, ফলে আশেপাশের দু-তিন জনও কাঁপতে শুরু করলো।
স্যর আমায় দাঁড় করালেন। আমি সোজা হয়ে সামনে তাকাতে পারছি না, এমনকি স্যরের পায়ের দিকেও না, কারণ সেখানে চোখ গেলেও আমার মনে হচ্ছে স্যর খাদিমসের 'জুতি' পরে আছেন। ভাগ্যিস 'ধুতো' পরেন না, তাহলে তো মরেই যেতাম -- এইসব ভেবে বারবার চোখ মুছছি, হেসে হেসে চোখে জল চলে আসছে আপদের মতো। স্যর খুব বকলেন, মনে হলো চর্যাপদ রাউডি হয়ে উঠেছে। বললেন "অসঙ্গতিই হাসির কারণ"; পাশের ছেলেটি দেখলাম খাতায় খসখস করে সেটাও লিখে নিল। তারপর আবার বেখেয়ালে আমার শাস্তির হিসেবে গন্ডগোল করে বলে ফেললেন, "এক্কেবারে নীল ডাউন করিয়ে ওঠবস করাবো।"
আমার তখন একেবারেই বাংলা সিনেমার অন্ধ কালী ব্যানার্জির দশা। বিহ্বল, আক্কেল গুড়ুম, বড় বড় পলক, আঁ-আঁ। বুঝতেই পারছি না, এই শারীরিক প্রক্রিয়া আমি কিভাবে সম্পন্ন করবো। হাসি থেমে গেছে। অথচ, এখন বাকি ক্লাস এটা শুনে, এবং সম্ভবতঃ আমাকে এই কোরিওগ্রাফিতে কল্পনা করে বেদম হাসছে। "অসঙ্গতিই হাসির কারণ"।
আজ, যখন মানুষকে বোঝানো যাচ্ছে না যে করোনা বা দুর্দশা নয়, আপনার অসঙ্গতিই সকলের হাসির কারণ, যখন হাস্যরসের এমন দুর্দিন যে সে একমাত্র মানুষকে 'judge' করার মাপকাঠি হিসেবেই মান্যতা পাচ্ছে, এসব কথা মনে পড়লো। সেই লাস্ট পিরিয়ডের জন্য ধন্যবাদ, স্যর।
Comments
Post a Comment