কলকাতাকথা - ৭
ভিড় ঠেলে এগিয়ে যায় কণাদ। ধর্মতলার জৌলুস ফেলে পাশের এক চোরাগলিতে ঢুকে পড়া গেল। একটা ছোট্ট চিনাপট্টি। চোখফুলো, ইজের পরা বাচ্চা উঠোনে খেলতে খেলতে অবাক হয়ে তাকায় আমাদের দিকে। কণাদ তার ফিনফিনে নরম চুলগুলো আলগোছে ঘেঁটে দিয়ে এগিয়ে যায়। ...
কাঠের সিঁড়ি বেয়ে দো' তলায় উঠতে উঠতেই পাওয়া যায় নতুন বইয়ের গন্ধ। পুঁচকে ঘর। পাশাপাশি দুটো পা রাখার জায়গাটুকু বাদ দিলে শুধু বই, বড়-মেজো-ছোটো। থরে থরে সাজানো নতুন পাতাগুলো উপরের তাকে পুরোনো হয়ে এসেছে। অবাঙালী বিক্রেতা হেসে বলেন, "ফীল অ্যাট হোম। টেক ইয়োর টাইম টু গ্র্যাব আ ফেভরিট কপি।" কণাদকে বলি, এই ঠেকটা চিনে রাখ। বারবার আসা যায়।
কণাদ শুধু একটু হাসে। বইয়ের ভিড় ঠেলে রাস্তা করে তাকগুলোর কাছে যাওয়ার। তুলে নেয় প্রায় আড়ালে থাকা কোনো প্রিয় বই। সেটা নিয়ে বসে পড়ে ছোটো একটা টুলেই। বিক্রেতা ভাঙা বাংলায় জিজ্ঞেস করেন, "চা চলে তো? বিকেলের চা বলি একটু?" ...
ময়দানের বিরাট অশ্বত্থ গাছের পাতা ঝিলমিলিয়ে ওঠে বর্ষার রোদ্দুরে। তার ও' পারে, অনেক দূরে মেঘ জমেছে শহরের উপর। এর মধ্যেই দু রাউন্ড চা শেষ। ঘোড়ার পেটানো চেহারা আর গোলগাল ফুটবলারদের পেরিয়ে চোখ চলে যায় গাছের ফাঁকে ফাঁকে রোদ্দুরের মতো পিছলে যাওয়া ধর্মতলাগামী ট্রামে। তাতে চেপে বসলেই একটু পর আবার ভিড়ে ভিড়াক্কার। হকার, গ্র্যান্ড, মেট্রো ঠেলে এগিয়ে যাওয়া।
কিন্তু সে পথে যাব না। এখন আমরা এখানে। পা এক্ষুনি কলকাতার পথে হাঁটতে প্রস্তুত নয়। কণাদ বলে, "অনেকদিন পর।" আকাশে তখন বাজে পৌনে ছ'টা। সন্ধে হব-হব। হোক। সিগারেট ফুরিয়ে গেছে। যাক। আপাতত শুধু অনিশ্চিত, মেঘলা হাওয়ায় বয়ে যেতে থাকি আরও কিছুক্ষণ আমরা, বয়ে যাক আমাদের কাটাকুটি হয়ে যাওয়া দিনগুলো।
Comments
Post a Comment