সফর সুনতালেখোলা
স্কুলের বন্ধুরা মিলে প্রথম বেড়াতে যাওয়া 2009 সালে, শান্তিনিকেতন। তারপর 2011 আর 2012-এ সুনতালেখোলা আর ইচ্ছেগাঁও। আর এবার বারাণসী। নয় নয় করে সাত-সাতটা বছর বয়স বেড়েছে আমাদের শান্তিনিকেতনের পর। কলেজ-ইউনিভার্সিটি পেরিয়ে এখন যে যার চাকরিতে। একজোট হওয়ার পথে বাধা অনেক। কখনও ছুটি না পাওয়া, কখনও নতুন সংসার, কখনও বিদেশ-বিভূঁইতে আলাদা হয়ে যাওয়া। এই যেমন এবারেই, খুব গর্ব ছিল, এখনও অব্দি সবকটা বেড়ানোতেই আমি, সায়নদীপ আর বিপ্রদীপ ছিলাম কনস্ট্যান্ট। হঠাৎ, একেবারে অপ্রত্যাশিত ভাবে পরীক্ষার কাজে আটকে গেল সায়নদীপ। এখন কারণে অকারণে দেখা না হওয়ার দিনে একজোট হওয়ার এইটুকু সুযোগ হাতছাড়া হলে একা লাগে আমাদের সবার।
আনন্দ, দেবাংশু, বিপ্রদীপ আর আমার কাছে বারাণসীর এই দু'দিন পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা। ঘাট ধরে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা ভাবে মনে হয়, এবার কি তাহলে উচিত মেপে নেওয়া এতদিনের পথটাকে? নিজের সঙ্গে আমাদের কিছু বোঝাপড়া থাকে, কিছু থাকে বন্ধুদের সঙ্গে। তার জন্য কথার প্রয়োজন হয় না। সন্ধ্যারতি শেষে একেবারে থুম মেরে থাকা কোনো ঘাটে জলের ধারে গিয়ে ক' জন বসে থাকলেও অনেক কিছু খোলসা হয়। স্কুলের বন্ধুরা স্তব্ধতা বোঝে। দূরে দূরে আলাদা হয়ে গেলেও। মধ্যরাতে শুনশান রাস্তার দিকে তাকিয়ে কথা ওঠে, পরের বার থেকে নো সায়নদীপ, নো ট্যুর। ওকে যেভাবে হোক আসতেই হবে। কথার স্রোত এবার বলে, নেক্সট ট্যুর আবার কবে? আমরা ক' জন সেবার থাকবো তো? নাকি কেউ না কেউ, কোথাও না কোথাও বাধা পড়ে যাব, দূরে সরে যাব?
ফেরার ট্রেন শেষ সন্ধেয় পেরিয়ে যায় কাশীর রেলব্রীজ। জানলা দিয়ে দেখা যায়, অতন্দ্র আলোয় একফালি চাঁদের মতো স্থির হয়ে আছে বারাণসীর ঘাটগুলি। আলোর চারদিকে কুয়াশা জমেছে। গঙ্গার বুকে একজোট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি এই বন্ধুর মতো প্রাচীনতা। খালি মনে পড়তে থাকে, পরের বার এই কটা মুখ থাকবে তো? হারিয়ে যাওয়ার, হারিয়ে ফেলার এমন ভয় তো আগে হত না ...
Comments
Post a Comment