Followers

ইচ্ছেডানা

'ইচ্ছেডানা'।  ২০০৭ এ দোলযাত্রার পর পর মাথায় ভর করল, ছোট পত্রিকা করব। তখন সায়নদীপের বাড়ি সাদার্ন অ্যাভিন্যু-তে। কলেজের পর সপ্তাহে প্রায় দু দিন করেই সেখানে চলে যেতাম। খাতায় হিজিবিজি কাটা, সূচীপত্রের মকশো। ১৯ বছর বয়স, পদ্য-গল্প করি, ছাপাবো না? আবার পরীক্ষারও ভয়। অত সময় কে দেবে প্রুফ, প্রেস, স্টল-কে? কাজেই, ওয়েব ম্যাগাজিন। ওয়েবসাইট কিনলাম এক বাগচিবাবুর কাছ থেকে। বন্ধুবান্ধবরা টাকা জমিয়ে প্রকাশ করলাম প্রথম সংখ্যা। খরচ বেশ, তবু, জীবনে প্রথম কিছু একটা প্রকাশ তো করলাম। কবিতা, গল্প, সাক্ষাৎকার, প্রবন্ধে ঝলমলাচ্ছে আমাদের পত্রিকা, আমাদের নিজেদের চোখেই। অর্কুটের স্ক্র্যাপবুকে লিঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। লোকে পড়ে বলছে, বেশ হয়েছে! আমাদের 'ইচ্ছেডানা'।         

ঈপ্সিতা, বিপ্রদীপ, কৌশিক ছিলই। এল রঙ্গন। দ্বিতীয়, তারপর তৃতীয় সংখ্যা। দরকারের সময় দেখা গেল, আমরা সবাই লেখার ব্যাপারে অনির্বচনীয় প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব দেখাই। বাইরের কেউ লেখা না দিলে বয়েই গেল। দিলে, পরের সংখ্যা থেকে সে আমাদের লোক। এভাবেই এল অঙ্কিত, যশোজিৎ। শুরু করেছিলাম ত্রৈমাসিকের কথা মাথায় রেখে। সেটা আর কখনই হয়ে ওঠেনি। তবে উদ্দীপনার অভাব ছিল না। কলেজ জীবন শেষ হল। ইউনিভার্সিটিতে ঢোকার মুখে আমাদের চতুর্থ সংখ্যা। পঞ্চম সংখ্যাও তার কিছুদিন পরেই।         

২০১২। চলে গেলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর স্মৃতিতে আমাদের ষষ্ঠ সংখ্যা। এই প্রথম কাগজে ছেপে হাতে এল আমাদের লেখা। নাম পাল্টালো, 'ছায়ানট'। এল গার্গী, শঙ্খ। এল ছদ্মনাম। এল প্রথম হাতে আঁকা প্রচ্ছদ। সম্পাদকীয় লেখার ভার আমি আর সায়নদীপ ভাগাভাগি করে নিতাম। সব মিলিয়ে সবচেয়ে 'সম্পূর্ণ'। পুরনো বন্ধুরাও আরেকটু কাছাকাছি এল, আরেকবার।               তারপর থেকে আমাদের পত্রিকা সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে। ষষ্ঠ হয়ে। সপ্তমে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হয়েছে বহুবার। কিন্তু ভাবনা একে অন্যকে বলার আগেই আর কিছুটা করে দূরে সরে গে'ছি আমরা। আরও ভেবেছি, উৎসব অনুষ্ঠানে দেখা হলে বলেছি। তারপর সরে গে'ছি, আবার। অথচ বসন্ত এসে গেছে বলতে আজও বুঝি আমাদের একসঙ্গে বসে কবিতা-গল্প বাছা, সাক্ষাৎকার নেওয়ার আগের টেনশন, আর ক্রমশঃ এগিয়ে আসা নববর্ষ। নতুন সংখ্যা। 

ছোট পত্রিকা। তার ছোট ইতিহাস।

Comments